মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী নির্দেশে কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন উপনির্বাচনে কোনও গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের নির্দিষ্ট প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
আরও পড়ুন:
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে উপনির্বাচনে দুই গোষ্ঠীকেই আলাদা নাম এবং নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত ‘ফ্রি সিম্বল’ নিয়ে লড়তে হবে। দুই পক্ষকে শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে পছন্দের তিনটি করে দলের নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে।
এরপর কমিশন প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য একটি নাম ও একটি প্রতীক অনুমোদন করবে।আরও পড়ুন:
দলীয় প্রতীক নিয়ে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের দাবি-দাওয়া বেশ কিছুদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় ছিল। বৃহস্পতিবার কমিশনে পৃথকভাবে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। মমতাপন্থীদের হয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ-সহ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিরাও কমিশনের সামনে নিজেদের সাংগঠনিক দাবির পক্ষে নথি ও যুক্তি তুলে ধরেন।আরও পড়ুন:
মমতাপন্থীদের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ও সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের দাবি, ২০২৩ সালে দলে যোগ দেওয়া ঋতব্রত কীভাবে দলের প্রতিষ্ঠাতা বা মূল সাংগঠনিক পরিচয়ের দাবিদার হতে পারেন—এই প্রশ্নও কমিশনের সামনে তোলা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক নির্বাচন ও সংবিধান নিয়েও মমতাপন্থীরা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ নিয়ে তাদের আপত্তির ভিত্তি রয়েছে। দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের সাংগঠনিক বৈধতার পক্ষে নথি জমা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
কমিশনের মতে, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত প্রতিনিধি বলে দাবি করায় বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রয়োজন রয়েছে। নির্বাচন প্রতীক সংক্রান্ত ১৯৬৮ সালের আদেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে উপনির্বাচনের সময়সীমা সামনে থাকায় আপাতত দুই পক্ষকে সমান সুযোগ দিতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ছাড়াই দুই গোষ্ঠীকে মাঠে নামতে হবে। কোন গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত কোন নাম ও প্রতীক পাবে, তা এখন নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।