উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বিরোধী শিবিরে জোটের সমীকরণ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটের আগ্রহ প্রকাশের পর এবার বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান মায়াবতীর সঙ্গেও এআইএমআইএমের যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

জুলাইয়ে মোরাদাবাদে এক সভায় অখিলেশ যাদবকে সরাসরি জোটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওয়েইসি। তিনি জানিয়েছিলেন, বিজেপিকে ফের ক্ষমতায় আসা ঠেকাতে তাঁর দল বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোট করতে প্রস্তুত। সেপ্টেম্বরে ফের একই অবস্থান স্পষ্ট করে ওয়েইসি বলেন, উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে একই মতের সব দলের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে প্রস্তুত তাঁর দল।

তবে সমাজবাদী পার্টির তরফে এখনও ওয়েইসির প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসেরও রাজনৈতিক সমন্বয় রয়েছে। ফলে এআইএমআইএমকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করা বিরোধী শিবিরের কাছে রাজনৈতিকভাবে জটিল বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বিকল্প জোটের সম্ভাবনা হিসেবে মায়াবতীর বিএসপির নাম সামনে আসছে। জুনে ওয়েইসি জানিয়েছিলেন, তাঁর দল উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে জোটের সম্ভাবনা খোলা রাখছে।

যদিও কোনও নির্দিষ্ট দলের নাম তখন ঘোষণা করেননি তিনি।

অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে এআইএমআইএমের সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরেই দলের জাতীয় মুখপাত্র সৈয়দ আসিম ওয়াকার কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁর দলত্যাগকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশে এআইএমআইএমের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

যদি ভবিষ্যতে বিএসপি ও এআইএমআইএমের মধ্যে কোনও সমঝোতা হয়, তা হলে উত্তরপ্রদেশের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমানে এটি সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোন দল কার সঙ্গে জোট করবে, তার উপরই উত্তর প্রদেশের চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করবে।