দিনের পর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। একটি রিল শেষ হওয়ার আগেই সামনে চলে আসছে আরেকটি ভিডিও। তার সঙ্গে রয়েছে একের পর এক নোটিফিকেশন, ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী সাজানো ফিড এবং ‘ইনফিনিট স্ক্রোল’-এর মতো ফিচার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের আসক্তি তৈরির প্রবণতা নিয়ে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করল দিল্লি হাই কোর্ট।
আরও পড়ুন:
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের ‘ইনফিনিট স্ক্রোল’ এবং ‘অটোপ্লে’-র মতো ফিচার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার কোনও পদক্ষেপ করছে কি না, বুধবার তা জানতে চাইল আদালত।
বিচারপতি নীতীশ বাসুদেব সামরে ও বিচারপতি অমিত শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের কাছে এ বিষয়ে জবাব চেয়েছে।আরও পড়ুন:
বিকাশ কাঠুরিয়া নামে এক অধ্যাপক এই বিষয়ে দিল্লি হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। মামলাকারীর অভিযোগ, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপে আটকে থাকেন এবং ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন:
মামলাকারীর বক্তব্য, সমস্যাটি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্টে নয়, বরং অ্যাপগুলির নকশা ও বিভিন্ন ফিচারের মধ্যেও রয়েছে। তাঁর দাবি, ‘লাইক’ বোতাম, ঘন ঘন নোটিফিকেশন, ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী তৈরি ফিড, অ্যালগরিদম এবং ‘ইনফিনিট স্ক্রোল’-এর মতো ফিচার ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখে।
ফলে অনেকেই চাইলেও সহজে অ্যাপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না।আরও পড়ুন:
মামলার শুনানিতে আদালত কেন্দ্রের কাছে জানতে চায়, ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে ধরে রাখার জন্য তৈরি এই ধরনের ফিচার নিয়ন্ত্রণে কোনও নির্দেশিকা বা নীতি রয়েছে কি না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ফিচার নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনও নীতি প্রণয়নের কথা ভাবছে কি না, তাও জানতে চায় আদালত।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা জানান, বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবনাচিন্তা করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে তাঁর কাছে এখনও কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা নেই।
আরও পড়ুন:
এর পর কেন্দ্রকে তিন সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপে আসক্তি তৈরির সম্ভাবনাময় ফিচারগুলি নিয়ন্ত্রণ বা অপসারণের জন্য কোনও নীতি তৈরি করা হবে কি না, সেই বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।