পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: "করোনা মহামারী পেরিয়ে গেলেও পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি বা মহামারী কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।"—উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলায় রেলওয়ে সুরক্ষাবল (আরপিএফ)-এর কাস্টডিতে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা ও সদস্যের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে এমনই কঠোর পর্যবেক্ষণ করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি মণীশ মাথুর আরপিএফ-এর সাব-ইনস্পেক্টর করণ সিং যাদব এবং কনস্টেবল অমিত কুমার যাদবের পৃথক ফৌজদারি আপিল খারিজ করে এই ঐতিহাসিক মন্তব্যটি করেন। গোন্ডার বিশেষ বিচারক (এসসি/ এসটি অ্যাক্ট)-এর গত ৪ আগস্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন অভিযুক্তরা, যা বুধবার বহাল রাখে আদালত।

গণ্ডা জেলার কিঙ্কি গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার সোনকরের পুলিশি হেফাজতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে এই মামলাটি রুজু হয়েছিল।

বিচারপতি মণীশ মাথুর পর্যবেক্ষণে জানান, কাস্টোডিয়াল ডেথের ঘটনায় সাধারণত অভিযুক্ত পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরই প্রমাণের মূল দায়িত্ব বর্তায়। কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় ঠিক কী ঘটেছিল এবং কীভাবে যুবকের মৃত্যু হলো, সে বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব অভিযুক্তদেরই নিতে হবে, যা এই প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট নয়। আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, কোভিডের মতো ভয়াবহ সময় আমরা পার করে এলেও কাস্টোডিয়াল ডেথের মতো অমানবিক ঘটনা সমাজে আজও অব্যাহত রয়েছে।

শুনানির সময় অভিযুক্ত আরপিএফ সদস্যদের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁদের মক্কেলদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের উল্লেখ করে যুক্তি দেন যে, সঞ্জয়ের উরু ও হাঁটুতে কিছু আঘাত ও ছড়ার দাগ থাকলেও তা মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল না।