পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বারো বছর আগে বিহারের রোহতাস জেলায় যে মহিলাকে নৃসংশভাবে খুন করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, এবং যাঁর তথাকথিত "হত্যার" অভিযোগে স্বামী, শ্বশুরসহ পরিবারের ৮ জন সদস্যকে কারাবাস করতে হয়েছিল—সেই মহিলাকে অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতদিন পর প্রতিবেশী প্রেমিকের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের গঢ়বা জেলায় শান্তিতে বসবাস করছিলেন ওই বধূ।
 
রোহতাস জেলার পুলিশ সুপার রাজ জানিয়েছেন, পুলিশকে বিভ্রান্ত করার দায়ে মামলা রুজু করে সরস্বতী দেবী ওরফে কান্তি দেবী নামের ওই মহিলাকে শনিবার সাসারামের আদালতে হাজির করা হয়। মহিলার শ্বশুর দিলীপ মেহতার বয়ান এবং পুলিশ সূত্রে ঘটনার যে চিত্র উঠে এসেছে তা রূপালী পর্দার রোমাঞ্চকর কাহিনীকেও হার মানায়।


 
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে আওরঙ্গবাদ জেলার পিরৌটা গ্রামের সরস্বতীর সঙ্গে বলরাতি বিঘার বাসিন্দা অরুণ মেহতার বিয়ে হয়। বিবাহের দুই বছর পর তাঁদের একটি সন্তানও হয়। তবে ২০১৪ সালে পরিবারকে কিছু না জানিয়ে গ্রামেরই বাসিন্দা রট্টু সিংয়ের সাথে পালিয়ে যান সরস্বতী। ওই বছরেরই ২২ আগস্ট দেহরি মুফাসসিল থানা এলাকার একটি খালের পাশ থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার বিকৃত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সরস্বতীর ভাই ও স্থানীয় চৌকিদার সেই লাশকে সরস্বতী দেবীর বলে দাবি করেন। ময়নাতদন্ত ও দাহকার্যের পর সরস্বতীর স্বামী ও শ্বশুরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে তাঁদের জেলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময় চুক্তি ও আপস করে মহিলার বাপের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে রফা হলে আসামিরা জামিনে মুক্তি পান।
 
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মিথ্যা খুনের অপবাদ ও জেলের শাস্তি বহন করার পর ২০২৬ সালে ভাগ্যক্রমে ঘটনার আসল সত্য উন্মোচিত হয়। মিথ্যা অভিযোগে বছরের পর বছর জেল খাটা এক পরিবারের দুর্দশা এবং আইনি ব্যবস্থার বড় ফাঁকফোকর নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।