পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অতি-প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক অজুহাত দেখিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার ভারতীয় সেনা জওয়ানদের প্রতিবন্ধী পেনশন ও ভাতা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনায় কেন্দ্র সরকারের প্রতি চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৫ সালের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নিজেরই একটি রিপোর্টের সুপারিশ উল্লেখ করে দেশের শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, প্রতিবন্ধী জওয়ানদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আইনি মামলাগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সরকার তা সঠিকভাবে কার্যকর করেনি।

১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক রায়ে বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি অলক আরাধের বেঞ্চ অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানদের প্রতিবন্ধী পেনশন দেওয়ার নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়ের করা ২৭১টি আপিল একযোগে খারিজ করে দিয়েছে।

শীর্ষ আদালত তার রায়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০১৫ সালের 'রিভিউ অফ সার্ভিস অ্যান্ড পেনশন ম্যাটার্স... অ্যান্ড স্ট্রেন্থেনিং ইনস্টিটিউশনাল মেকানিজম' নামক বিশেষ রিপোর্টের (যা 'রক্ষা মন্ত্রী রিপোর্ট' নামে পরিচিত) প্রসঙ্গ টানেন।

২০১৫ সালের ওই রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন অনেক এগিয়ে গেছে, তখন ভারতে এখনও অতি-প্রযুক্তিগত ও খুঁটিনাটি অজুহাতে প্রতিবন্ধী জওয়ানদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সেনাসেবার মধ্যে একটি সহজাত মানসিক ও শারীরিক চাপ থাকে, যা সব গণতান্ত্রিক দেশে মানা হয়।

শীর্ষ আদালত আক্ষেপ করে জানায়, ওই রিপোর্টে এ জাতীয় সমস্ত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছিল এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তা মেনেও নিয়েছিল। তবুও সরকারি স্তরে প্রতিবন্ধী সেনাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করে যাওয়া হচ্ছে। মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো জওয়ান সুস্থ অবস্থায় বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর যদি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বের হন, তবে তার দায়ভার মূলত সেনাসেবার ওপরেই বর্তায়।