পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূলের দুই চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন এবং সুদীপ্ত রায়ের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আইএমএ-র অ্যাকাউন্টে প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক গরমিলের অভিযোগে শান্তনুর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সুদীপ্ত শিবির। অভিযোগ, ২০১৫ সালে আইএমএ-র প্যান কার্ড ব্যবহার করে সদর দফতরকে না জানিয়ে 'জিমা'-র নামে একটি গোপন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। সেখানে জমা পড়া ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা নিয়ম ভেঙে তোলা হয়েছে।
এর মধ্যে শান্তনু সেনের কার্যালয় 'দিশা মেডিহেল্প'-এর নামেও চেক কাটা হয়েছিল। আইএমএ-র তদন্ত রিপোর্টে এই বেনিয়মের কথা বলা হলেও গত এক বছরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এই সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন শান্তনু সেন। তাঁর দাবি, আইএমএ-র সম্মেলন বাবদ ওই টাকা খরচ হয়েছিল এবং অবশিষ্ট প্রায় ২১ লক্ষ টাকা সংগঠনের তহবিলেই ফেরত দেওয়া হয়েছে। শান্তনুর পালটা অভিযোগ, সম্প্রতি পাঁচ জন ভুয়ো চিকিৎসক ধরা পড়ার ঘটনায় রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে তিনি সরব হয়েছিলেন। এই দুর্নীতিতে বিধাননগর পুলিশে কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় এবং নির্মল মাজির ভূমিকা খতিয়ে দেখার আর্জি জমা পড়েছে। সেই কারণেই তাঁকে কালিমালিপ্ত করতে সুদীপ্ত পুরনো বিষয় খুঁচিয়ে তুলছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই তৃণমূলের এই দুই চিকিৎসক নেতার দীর্ঘদিনের লড়াই। আরজি কর কাণ্ডে সুদীপ্ত ঘনিষ্ঠ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে শান্তনু সরব হওয়ার পর থেকেই এই সংঘাত আরও চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি শান্তনু সেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, যা এই রেষারেষিকে আরও এক ধাপ উসকে দিয়েছে।