ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ঠেকাতে ইরানের ওপর প্রভাব খাটানোর জন্য চীনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব। এরপর বেইজিং ব্যক্তিগতভাবে তেহরানকে হুতিদের ওপর প্রভাব কাজে লাগিয়ে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিন ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

গত কয়েক দিনে লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে হুতিদের অগ্রযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

এর ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির মধ্যে কৌশলগত পেরিম দ্বীপ ও মোখা এলাকার নিয়ন্ত্রণের খবরও এসেছে।

প্রকাশ্যে চীন সংযম, সংলাপ এবং নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে রয়টার্সের সূত্রগুলোর দাবি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে তেহরানকে আরও স্পষ্টভাবে হুতিদের ওপর তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে বলা হয়েছে।

বার্তাটি কীভাবে ইরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের সময়ই চীনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। চীনের সরকারি বিবৃতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, ইরানের সঙ্গে সংলাপ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে চীনের উদ্বেগের জবাবে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের অবসান প্রয়োজন।

তিন ইরানি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চীনা কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি দেননি। হুতিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে তেহরানের বিরুদ্ধে বেইজিং কোনো ব্যবস্থা নেবে—এমন কথাও বলা হয়নি।

রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ুক, তা চায় না বেইজিং। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়ানো কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয় বলেও মন্তব্য করেছে তারা। চীন সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি বেসামরিক ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ এবং সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।