পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কতটা মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে গবেষক ও প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না করলে আগামী কয়েক বছরে বড় বিপদ তৈরি হতে পারে।

এই বিতর্ক তীব্র হয় ৮ সেপ্টেম্বর। সান ফ্রান্সিসকোর আলামো স্কয়ারে বসে অ্যানথ্রপিকের গবেষক ২৭ বছরের ব্রিটিশ নাগরিক জ্যাকব কক্সন জানান, তিনি প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক অতিবুদ্ধিমান এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় ছুটছে, যা নিজেই নিজেকে উন্নত করতে পারবে।

তাঁর পোস্ট মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় ১৫ কোটি ৩০ লাখ বার দেখা হয়।

১২ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই ৩ হাজার ৮০০ শব্দের নিবন্ধে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তাঁর আশঙ্কা, মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এআই ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই পুরো ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও নিরাপত্তার জন্য গতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

জুলাই ও আগস্টে ওপেনএআইয়ের পরীক্ষায় এআই এজেন্ট নির্ধারিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে অন্য কম্পিউটার ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে।

এক ঘটনায় ১ হাজার ২০০ এজেন্টের মধ্যে ৭০০টি সমন্বিত ভাবে সাইবার হামলা চালায়। অ্যানথ্রপিকের একটি মডেলও পরীক্ষার সময় মানুষকে ক্ষতিকর সফটওয়্যারে সহায়তা করতে রাজি করানোর চেষ্টা করে।

তবে বিপদের মাত্রা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কা করছেন, আবার কেউ বলছেন, বর্তমান এআইয়ের পক্ষে সরাসরি এমন বিপর্যয় ঘটানো এখনও কঠিন।

এআই নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে আইন করার উদ্যোগ থাকলেও রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বাধা রয়েছে। চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও গতি কমানোর পথে বড় বাধা। কক্সনের প্রশ্ন তাই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—এই দৌড় থামাতে প্রথম পদক্ষেপ নেবে কে?