নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল অভিযোগ করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে রাজনৈতিক দলগুলিকে ভেঙে দিয়ে পরে তাদের নির্বাচনী প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়ার পথে হাঁটছে। এই প্রসঙ্গে তিনি শিবসেনা ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির বিভাজনের উদাহরণও তুলে ধরেন।

রাহুল লেখেন, প্রথমে শিবসেনা, পরে এনসিপি এবং এখন তৃণমূল কংগ্রেস—প্রতিবারই একই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর অভিযোগ, ‘ভোটচুরি, সরকারচুরির পর দলচুরি’ এখন গণতন্ত্রের অবনতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব জনগণের রায়কে সম্মান করা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল বলেন, এই লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান—এমন প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং ভোটারের লড়াই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে কমিশনের তরফে দেওয়া ‘উপহার’। শিবসেনা ও এনসিপির ক্ষেত্রে যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তৃণমূলের ক্ষেত্রেও তার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার দায় নির্বাচন কমিশনের।

বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধকেই দায়ী করেছে। দলের রাজ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, এটি তৃণমূলের ‘পাপের ফল’। তাঁর অভিযোগ, ‘জোড়াফুল’ প্রতীককে কেন্দ্র করে তৃণমূলের কর্মকাণ্ডে মানুষ আতঙ্কিত হয়েছে।

সিপিএমের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৃণমূলকে আক্রমণ করা হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণেই প্রতীক নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসইউসিআইয়ের পক্ষ থেকেও কমিশন ও তৃণমূল—দুই পক্ষেরই সমালোচনা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই গোষ্ঠীই আপাতত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দুই গোষ্ঠীকে বিকল্প নাম ও কমিশনের তালিকাভুক্ত প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দলের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার সকালে কয়েকজন নেতাকে নিজের বাড়িতে ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী শিবিরের তরফে আখরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত নয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তাঁদের হাতেই প্রতীক থাকবে বলে তাঁরা এখনও আশাবাদী।