পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নিঠারি ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড মামলার শেষটিতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বেকসুর খালাস পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলির। শুক্রবার হরিদ্বারে তাঁর নিজের চায়ের দোকান থেকেই কোলির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ।

পুলিশের আধিকারিক কুন্দন সিং রানা জানিয়েছেন, অত্যন্ত সন্দেহজনক অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

আলমোড়ার মাংরুখাল গ্রামের আদি বাসিন্দা কোলি গত কয়েক মাস ধরেই হরিদ্বারে থাকছিলেন। চায়ের দোকানটি ভাড়া নেওয়ার আগে তিনি নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি দোকানটি চালু করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর পরিবারকে মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নিঠারি হত্যাকাণ্ডের শেষ মামলাটিতে সুরেন্দ্র কোলিকে বেকসুর খালাস দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, একই প্রমাণ, স্বীকারোক্তি ও তদন্তের ভিত্তিতে বাকি ১২টি মামলায় তিনি যেহেতু ইতিমধ্যেই খালাস পেয়ে গিয়েছেন, তাই ২০১১ সালের এই একটি মাত্র মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে রাখাটা অনুচিত এবং তা হবে ‘বিচারের নামে প্রহসন’। ২০০৬ সালে যখন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ৩০ বছর। নিঠারি মামলায় এর আগে নিম্ন আদালতে একাধিকবার তাঁর ফাঁসির সাজাও হয়েছিল।

২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে নয়ডার ৩১ নম্বর সেক্টরে ব্যবসায়ী মনিন্দর সিং পান্ধেরের ডি-৫ বাংলোর পিছনের নালা থেকে একাধিক মাথার খুলি ও মানুষের হাড়গোড় উদ্ধার হয়। নারী ও শিশুদের নিখোঁজ হওয়া এবং খুনের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

ওই বাংলোতেই পরিচারক হিসেবে কাজ করতেন কোলি। পুলিশের অভিযোগ ছিল, নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে খুন করতেন তিনি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নরমাংস খাওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পান্ধেরের বিরুদ্ধেও অপরাধে মদত দেওয়ার অভিযোগ ছিল।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে এই মামলার তদন্তভার নেয় সিবিআই। সিবিআই মূলত পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন কোলির স্বীকারোক্তি এবং জলের ট্যাঙ্কের তলা থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ছুরির উপর ভিত্তি করে মামলা সাজিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আদালত প্রসিকিউশনের পেশ করা সেই প্রমাণগুলিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেনি। সুপ্রিম কোর্টও জানায়, অন্যান্য নিঠারি মামলায় তাঁর স্বীকারোক্তি এবং উদ্ধার হওয়া প্রমাণগুলি আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছে। এই মামলার অপর অভিযুক্ত মনিন্দর সিং পান্ধেরও দীর্ঘ কয়েক বছর জেলে থাকার পর বেকসুর খালাস পেয়ে ২০২৩ সালের ২০ অক্টোবর মুক্তি পান।