পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিয়ের ঠিক এক মাস আগে প্রাক্তন সহকর্মী ও তাঁর সঙ্গীর হাতে এক যুবক খুন হওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিল্লি ও গুরুগ্রামে। নিহতের নাম যুবরাজ সিং মনচান্দা (৩১)। আর্থিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ অনুমান করছে। অভিযুক্তরা তাঁকে হত্যা করার পর গুরুগ্রামে নিজেদের বাড়ির কাছের একটি ড্রেনে দেহ ফেলে দেয়।
এই ঘটনায় পুলিশ প্রাক্তন সহকর্মী 'ভৎস' নামের এক নারী ও তাঁর সঙ্গীকে উত্তরাখণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করেছে।আরও পড়ুন:
গত ৬ সেপ্টেম্বর বোনদের সাথে দিল্লির লাজপত নগর মার্কেটে বিয়ের শেরওয়ানি কিনতে গিয়েছিলেন যুবরাজ। কেনাকাটা শেষে বিকেলে তাঁরা সেখানকার একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে থামেন। সেখানে যুবরাজ জানান, জরুরি প্রয়োজনে তাঁকে এক প্রাক্তন সহকর্মীর সাথে দেখা করতে গুরুগ্রাম যেতে হবে।
এরপর বোনেরা ক্যাবে বাড়ি ফিরে গেলেও যুবরাজ গুরুগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।আরও পড়ুন:
জানা যায়, সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পরিবারের সাথে যুবরাজের ফোনে কথা হয় এবং তিনি রাত ১০টার মধ্যে বাড়ি ফেরার কথা জানান। তবে নির্দিষ্ট সময়ে না ফেরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪:১৬ নাগাদ যুবরাজের মোবাইল থেকে একটি শেষ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে, যার পরেই আবার ফোনটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
কোনো সন্ধান না পেয়ে ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যরা দিল্লির লাজপত নগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন।আরও পড়ুন:
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গুরুগ্রামে যাওয়ার আগে যুবরাজ 'ভৎস' নামের ওই প্রাক্তন সহকর্মীর সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন। তবে ঘটনা পর থেকেই ওই নারীর ফোন বন্ধ ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং কর্মক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদের পর মূল অভিযুক্ত হিসেবে ভৎসকে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত একটি নতুন মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে উত্তরাখণ্ড থেকে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাপাদে দুজনেই যুবরাজকে হত্যা করে ড্রেনে দেহ ফেলার কথা স্বীকার করেছে।