পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আসন্ন নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরম আকার ধারণ করেছে। তৃণমূল প্রার্থী আগেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এ বার এক পুরনো মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর দাবি, প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করানোর উদ্দেশ্যেই মিলনবাবুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি গ্রেফতারির আগে প্রার্থীর চোখে কাপড় বেঁধে সমুদ্রসৈকতের দিকে নিয়ে গিয়ে মনোনয়ন তুলে নেওয়ার জন্য লাগাতার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দলের জেলা পর্যবেক্ষক শুভাশিস ভট্টাচার্যকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে।শনিবার সকালে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও চাপের মুখেই তাঁরা নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দান ছাড়বেন না। আদালত প্রার্থীর জামিন না দিলে জেল থেকেই প্রচার চলবে এবং দলীয় কর্মীরা লিফলেট বিলি করে মানুষের দরবারে যাবেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভঙ্করবাবু আরও বলেন, নন্দীগ্রামের জমি রক্ষা কমিটির আন্দোলনে তাঁদের প্রার্থীর পাশাপাশি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও শিশির অধিকারীও ছিলেন। অথচ কুড়ি বছরের পুরনো মামলায় হঠাৎ কেন শুধু কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করা হল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। প্রার্থীর বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলার বিবরণ আগেই নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
অন্য দিকে, কংগ্রেসের তোলা সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিজেপি। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়ের পথ চওড়াই রয়েছে এবং লক্ষ্য অনুযায়ী দল জিতবে। রাজ্যে কংগ্রেসের অস্তিত্ব কার্যত দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হয় এবং একমাত্র অধীর চৌধুরীকে দেখলেই দলটার কথা মানুষের মনে পড়ে বলে কটাক্ষ করেন তিনি। উল্লেখ্য, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা হবে।