পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশি হেফাজতে হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া। আসামিদের মধ্যরাতে হেফাজতে নেওয়া এবং তথাকথিত 'এনকাউন্টার' বা রহস্যজনক দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শুক্রবার নতুন দিল্লিতে 'সেন্টার ফর ডিসকোর্স অন ক্রিমিনাল অ্যান্ড কনস্টিটিউশনাল জুডিসপ্রুডেন্স' আয়োজিত "অপরাধমূলক মামলায় নৈতিকতা, মিডিয়া ট্রায়াল এবং জবানবন্দির গ্রহণযোগ্যতা" শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিচারপতি এই মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন:
বক্তব্যে বিচারপতি জানান, তিনি একসময় মনে করতেন কাস্টোডিয়াল ভায়োলেন্স বা হেফাজতে নির্যাতন হয়তো এখন আর ঘটে না, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে সেই ধারণা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। গভীর রাতে আসামিদের দুর্ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "কেন পুলিশি হেফাজতে থাকা কোনো আসামিকে রাত ৩টের সময় 'ক্রাইম সিন রিঅ্যাকশন' বা ঘটনা পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যেতে হবে?
সূর্যোদয় পর্যন্ত কি অপেক্ষা করা যেত না? এমন কী চরম জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল?"আরও পড়ুন:
হেফাজতে আসামির মৃত্যুর পর পুলিশের দেওয়া বিভিন্ন পরিচিত অজুহাতের তীব্র সমালোচনা করেন বিচারপতি। তিনি জানান, সচরাচর বলা হয় আসামি বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, ধস্তাধস্তির সময় গুলি চলেছে, আসামিকে কোনো দ্রুতগামী ট্রাক ধাক্কা দিয়েছে, অথবা হতাশাগ্রস্ত হয়ে আসামি কুয়োয় ঝাঁপ দিয়েছে। বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া স্পষ্ট করে দেন, এই ধরণের ঘটনা সাধারণ নাগরিক ও বিচারপ্রার্থীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের বীজ বুনে দেয়।
আরও পড়ুন:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিযুক্ত তরুণ আইপিএস অফিসারদের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের এই বিচারপতি। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "মুখে চরম রাগ নিয়ে তরুণ আইপিএস অফিসারদের ব্যক্তিগতভাবে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়। খালি হাতে বিক্ষোভকারীদের প্রহার করছেন তারা! কেন? একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার এত উত্তেজিত হওয়ার প্রয়োজন কী?" তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দিনের আলোতেই যে পুলিশ কর্মকর্তা এতটা হিংসাত্মক আচরণ করতে পারেন, রাতের বেলা তাঁর হেফাজতে থাকা আসামির কী দশা হতে পারে তা ভেবেই আঁতকে উঠতে হয়। এই কারণেই বিচারকরা প্রায়শই আসামিদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করেন।