পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বিধানসভা উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক আগেই একের পর এক বিরোধী দলের প্রার্থীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার এবং জেল হেফাজতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, শনিবার রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের এক নির্দল প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম সফিউল ইসলাম। তিনি গত ১৪ সেপ্টেম্বর রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।

শনিবার বিকেলে ডোমকল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নওদা থানার পুলিশ। রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। পুলিশের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নওদার পাটিকাবাড়ি এলাকায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে একটি বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পুরনো মামলাতেই দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন সফিউল।

তবে রাজনৈতিক মহলের খবর, নির্দল হিসেবে মনোনয়ন দিলেও সফিউল আসলে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নওদা ব্লক সভাপতি।

এই কেন্দ্রে দলের মূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ ওরফে রবিনের ডামি প্রার্থী হিসেবেই কৌশলগত কারণে তাঁকে দাঁড় করানো হয়েছিল, যাতে মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও দলের প্রতীক লড়াইয়ে থাকে। এই গ্রেপ্তারিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন রবিন। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল ভয় পেয়েই পুরনো ও মিথ্যে মামলায় বিরোধীদের ফাঁসিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। যদিও জেলা পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই গ্রেপ্তারি সঙ্গে উপনির্বাচন প্রক্রিয়ার কোনও সম্পর্ক নেই, পুরনো ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর ঠিক আগেই, শুক্রবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে প্রায় দুই দশকের পুরনো চারটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় খুন ও অস্ত্র আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে হলদিয়া আদালত। উপনির্বাচনের মুখে পরপর দুই বিরোধী প্রার্থীর এমন গ্রেপ্তারে শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির।