প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি মহম্মদ হামিদ আনসারির একটি মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। শনিবার নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে আয়োজিত এজি নুরানি মেমোরিয়াল লেকচারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রয়াত আইনজ্ঞ ও লেখক এজি নুরানির বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেন। সেখানে নেহরুর নামে তিনি বলেন, ভারতের জন্য বিপদ কমিউনিজম নয়, বরং হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা।
আরও পড়ুন:
আনসারি ‘দ্য আরএসএস: আ মেনেস টু ইন্ডিয়া’ বইয়ের উল্লেখ করে জানান, নুরানি তাঁর বইয়ের ভূমিকায় বিদেশ মন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব জগৎ সিং গুন্দেভিয়ার নথিবদ্ধ করা নেহরুর একটি বক্তব্যের কথা লিখেছিলেন।
সেই বক্তব্যেই নেহরু ভারতের জন্য হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতাকে কমিউনিজমের তুলনায় বড় বিপদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে আনসারি জানান।আরও পড়ুন:
দেশের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারী জানান, প্রাক্তন বিদেশ সচিব জগৎ সিং গুন্দেভিয়া তার নোটে লিখে গিয়েছেন, একবার বিদেশ মন্ত্রকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেহরু বলেছিলেন–“The danger to India, mark you, it is not communism, it is Hindu right-wing communalism.” অর্থাৎ, ‘ভারতের জন্য বিপদ কমিউনিস্টরা নয়, কট্টরপন্থী সাম্প্রদায়িক হিন্দুরা।’ নুরানির লেখাকে মাধ্যম করে আনসারি আরও বলেন, “বর্তমানে দেশে নাগরিক জাতীয়তাবাদের জায়গায় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যা ধর্মের ভিত্তিতে দেশবাসীর মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে।
এই ধরনের চিন্তাভাবনা নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে।”আরও পড়ুন:
নিজের বক্তব্যে আনসারি বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক প্রবণতা নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, নাগরিক জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠিত ধারণার জায়গায় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের একটি নতুন ধারণা সামনে আনা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর ফলে নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে এক করে দেখার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে এবং ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
আনসারির মন্তব্যের পরেই বিজেপির তরফে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে। বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন,“রাহুল গান্ধীর নির্দেশে আনসারি এই ধরনের মন্তব্য করছেন। ২০০৯ সালে রাহুল হিন্দু সংগঠনগুলিকে লস্কর-ই-তইবার থেকেও বড় বিপদ বলেছিলেন। কংগ্রেস আসলে সন্ত্রাসপন্থী ও হিন্দু-বিরোধী দল।"
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও আনসারির মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও উগ্রপন্থার মতো বিষয় নিয়েও কথা বলা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
মহম্মদ হামিদ আনসারি ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি দেশের ১২তম উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।