পুবের কলম ,নয়াদিল্লি :
আরও পড়ুন:
ভারতীয় সাংবাদিকতার ইতিহাসে বিস্মৃতপ্রায় এক অগ্রদূত মৌলভী মুহাম্মদ বাকরের আত্মত্যাগকে স্মরণ করল প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া। তাঁর ১৬৯তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার মাধ্যমে অবস্থান নেওয়ার কারণে দিল্লি গেটের কাছে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
বাকর ছিলেন 'দিল্লি উর্দু নিউজ পেপার' -এর সম্পাদক। ১৮৫৭ সালের অস্থির সময়ে তিনি শুধু সম্পাদকীয় লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; দিল্লির বিভিন্ন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছিলেন।
প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানে প্রাক্তন মুখ্য তথ্য কমিশনার ওয়াজাহাত হাবিবুল্লাহ তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআই -এর গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সাধারণ মানুষের সরকারি তথ্য পাওয়া এবং প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্ন। বাকরের সাংবাদিকতার উত্তরাধিকারের সঙ্গে বর্তমান সময়ে তথ্যের অধিকার ও স্বাধীন সাংবাদিকতার সম্পর্কও আলোচনায় আসে।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণিশঙ্কর আইয়ার বাকরের সাংবাদিকতার বহুত্ববাদী চরিত্রের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বাকরের লেখায় হিন্দু ও মুসলিম—উভয় ঐতিহ্যের উল্লেখ থাকত এবং তাঁর জাতীয়তাবোধ ছিল বৃহত্তর ঐক্যের ধারণার সঙ্গে যুক্ত।
ফেডারেশন অফ প্রেস ক্লাবস অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ী উর্দু সাংবাদিকদের আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর চাপ ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সামনে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রেস ক্লাবগুলির সম্মিলিত উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি সঙ্গীতা বরুয়া পিশারোটি বলেন, ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এখনও যথেষ্টভাবে চর্চিত হয়নি। বক্তারা সাংবাদিকতার পাঠ্যক্রমে মৌলভী মুহাম্মদ বাকরের জীবন ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করার এবং তাঁর ওপর গবেষণা বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় প্রকাশের আহ্বান জানান।
১৮৫৭-এর রক্তাক্ত ইতিহাসে বাকরের আত্মত্যাগ তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়—অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্যে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা, জনতার তথ্য জানার অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবেও উঠে আসে।