পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন বাস কন্ডাক্টরের ছেলে দীপাংশু শোকেন। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামেন এবং সহ-সভাপতি পদে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। শনিবার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, দীপাংশু একাই পেয়েছেন ৩০ হাজার ৬১৫টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এবিভিপির ইশু মৌর্য পেয়েছেন ১৬ হাজার ৯১০টি ভোট। অন্যদিকে, যাঁকে দীপাংশুর বদলে প্রার্থী করেছিল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই, সেই বীর ছাত্রথ মাত্র ৪,৩১৩টি ভোট পেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন।

পশ্চিম দিল্লির পিরাগড়ির বাসিন্দা দীপাংশুর বাবা পেশায় একজন বাস কন্ডাক্টর এবং মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। ভগৎ সিং কলেজ থেকে স্নাতক হওয়া দীপাংশুর ছাত্র রাজনীতিতে আসার প্রবল ইচ্ছা ছিল। সেই মতো প্রথমে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের তরফেই তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে তাঁকে মনোনয়ন তুলে নিতে বাধ্য করা হয়। জানা যায়, এনএসইউআই-এর পর্যবেক্ষক কানহাইয়া কুমারের সঙ্গে সংঘাতের জেরেই তাঁর বদলে টিকিট দেওয়া হয় বীরকে।

এরপরই তিনি নির্দল হিসেবে দাঁড়িয়ে এই বিরাট জয় ছিনিয়ে নেন।

জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দীপাংশু বলেন, বর্তমান প্রজন্মের পড়ুয়ারা অনেক বেশি সচেতন, তাঁদের বোকা বানানো সহজ নয়। তিনি জানান, সাধারণ পড়ুয়ারাই তাঁকে এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সমর্থন জুগিয়েছে। একইসঙ্গে দিল্লির সত্য নিকেতন দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি শপথ নেন, যতদিন না ওই ঘটনায় নিহতরা বিচার পাচ্ছেন, ততদিন তিনি পায়ে জুতো পরবেন না।

প্রসঙ্গত, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের মোট চারটি পদের মধ্যে বাকি তিনটি পদেই বড় জয় পেয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। সভাপতি পদে যশ দাবাস, সচিব পদে রিয়া চাওড়ি এবং যুগ্ম সচিব পদে জয়ী হয়েছেন এবিভিপির লক্ষরাজ সিং।