কাশ্মীরের আপেল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে পৌঁছে দিতে রেল পরিষেবাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার দাবি উঠছে। সড়কপথের তুলনায় কম খরচে পণ্য পরিবহণের সুযোগ থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে রেলপথে আপেল পাঠানোর আগ্রহ বাড়ছে। তবে এখনও মোট রফতানির তুলনায় রেলের মাধ্যমে পাঠানো আপেলের পরিমাণ খুবই কম।
আরও পড়ুন:
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কাশ্মীরে প্রায় ২২.১৫ লক্ষ মেট্রিক টন আপেল উৎপাদিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ মেট্রিক টন আপেল জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে পাঠানো হয়।
গত মরশুমে রেলের মাধ্যমে পরিবহণ করা হয়েছিল প্রায় ২৫ হাজার টন আপেল, যা বাইরে পাঠানো মোট আপেলের দুই শতাংশেরও কম।আরও পড়ুন:
কাশ্মীর ভ্যালি ফ্রুট গ্রোয়ার্স কাম ডিলার্স ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বশির আহমেদ বশির বলেন, সড়কপথের তুলনায় রেলে আপেল পরিবহণের খরচ কম। তবে এখনও অনেক চাষিই রেলপথে পণ্য পরিবহণের সুবিধা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন কাশ্মীর থেকে দেশের বিভিন্ন ফলের বাজারে ১৫০টিরও বেশি আপেলবোঝাই ট্রাক রওনা দেয়।
আরও পড়ুন:
সরাসরি বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবহণের সুযোগ থাকায় সড়কপথ এখনও চাষিদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।
তবে আরও বেশি বাজার রেল যোগাযোগের আওতায় এলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে মনে করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।আরও পড়ুন:
রেলে আপেল পরিবহণের ক্ষেত্রে পণ্য অতিরিক্ত বার ওঠানো-নামানোকে অন্যতম সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বশির আহমেদ বশির। তাঁর দাবি, বিভিন্ন গন্তব্যে একাধিকবার আপেল ওঠানো-নামানোর ফলে পরিবহণের খরচ বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, সড়কপথেও রয়েছে নানা অনিশ্চয়তা।
আপেলের মরশুমে শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কে প্রায়ই ধস নামায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন বাজারে আপেল পৌঁছতে দেরি হয়। আপেল ব্যবসায়ী গুলাম মহম্মদ ভাটের কথায়, সড়ক যোগাযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। রেল পরিষেবা আরও বাড়ানো গেলে এবং দেশের আরও বেশি বাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগ তৈরি হলে জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকার সময় বিকল্প পথে দ্রুত আপেল পাঠানো সম্ভব হবে।আরও পড়ুন:
সম্প্রতি কাশ্মীরের ডিভিশনাল কমিশনার অংশুল গর্গও আপেল-সহ উদ্যানপালনজাত পণ্য পরিবহণে রেল পরিষেবার ব্যবহার বাড়ানোর জন্য চাষি ও ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের বাজারে পণ্য পাঠাতে রেল পরিষেবার ব্যবহার আরও বাড়ানোর জন্য আধিকারিকদের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।