পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ ৩৭ বছরের কর্মজীবন শেষে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অবনীন্দ্র কুমার সিং। নিজের জীবনের সমস্ত প্রভিডেন্ট ফান্ড-এর সঞ্চয়, যার আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১ লক্ষ টাকা, দেশগঠনের কাজে 'পিএম কেয়ার্স' তহবিলে দান করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, মৃত্যুর পর চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার উদ্দেশ্যে তিনি ও তাঁর স্ত্রী শিবাতী ইন্দ্র সিং নিজেদের দেহদানেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

১৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এক আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন বিচারপতি সিং। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিচারপতি অবনীন্দ্র কুমার সিং বলেন, "সরকারি হিসাব অনুযায়ী আমার জিপিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১ কোটি ১ লক্ষ টাকা পাব।

দেশগঠনের লক্ষ্যে পিএম কেয়ার্স তহবিলে এই সম্পূর্ণ অর্থ দান করার অঙ্গীকার করছি। এটি কোনো শেষ নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।"

মরণোত্তর দেহদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি একটি হিন্দি প্রবাদ স্মরণ করে বলেন, "আপনে লিয়ে জিয়ে তো কেয়া জিয়ে" (যদি কেবল নিজের জন্যই বাঁচলাম, তবে তাকে কি বেঁচে থাকা বলে?)। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও সমাজের কল্যাণে বিদায় সংবর্ধনার দু'দিন আগেই তিনি ও তাঁর স্ত্রী একটি মেডিকেল কলেজে নিজেদের দেহ আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্টার করেছেন।

উল্লেখ্য, এই দুটি মহৎ সিদ্ধান্তের নেপথ্যেই তাঁর স্ত্রীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণা ছিল বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিচারপতি সিং। বিদায়ী ভাষণে বিচারপতি সিং তাঁর জীবনসংগ্রাম ও মূল্যবোধ গড়ে ওঠার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, মাত্র ছয় মাস বয়সে মাতৃহারা হওয়ার পর মামা ও মাসির কাছেই মানুষ হন তিনি। কঠোর পরিশ্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তাঁর মাসি বলতেন, "সাফল্যের কোনো শর্টকাট হয় না। কষ্ট না করে পাওয়া সাফল্য বেশিদিন স্থায়ী হয় না।"

দীর্ঘ ৩৭ বছরের বিচার বিভাগীয় যাত্রা শেষে তিনি সহকর্মী বিচারক, আইনজীবী, রেজিস্ট্রি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান এবং স্পষ্ট করেন যে, অবসর গ্রহণ করলেও অন্য কোনো মাধ্যমে সমাজের সেবা করে যাবেন।