পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অনন্ত অম্বানীর বাড়ির গণেশ চতুর্থীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোমবার মুম্বই উড়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার দুপুরে নিউ টাউনে একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকে সোজা মুম্বইয়ের বিমান ধরেন। রাতে তাঁর ফের কলকাতায় ফিরে আসার কথা রয়েছে। মুম্বই রওনা হওয়ার আগে এই ঝটিকা সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর মুখ্যমন্ত্রী দেননি। তবে তাঁর এই সফরকে নিছক ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে মানতে নারাজ প্রশাসনিক এবং শিল্পমহল। ওয়াকিবহাল শিবিরের মতে, উৎসবের আবহে রাজ্যে মুকেশ অম্বানীর রিলায়েন্স গোষ্ঠীর বড়সড় বিনিয়োগ আনতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মুম্বই যাত্রা।
গত মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে।

তার পর থেকেই রাজ্যে শিল্পের খরা কাটাতে তৎপর নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এ নিয়ে লাগাতার উদ্যোগ নিচ্ছেন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই মুম্বই সফরেই দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপতি মুকেশ অম্বানীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। মূল উদ্দেশ্য, বাংলায় রিলায়েন্সের বর্তমান ব্যবসার পরিধি আরও বৃদ্ধি করা এবং নতুন ক্ষেত্রগুলিতে বিপুল মূলধন বিনিয়োগের রূপরেখা তৈরি করা।

এই সম্ভাব্য বৈঠকের অন্যতম বড় চমক হতে পারে ‘বনতারা’ প্রকল্প। গুজরাতে রিলায়েন্সের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে বিশ্বমানের এই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও চিকিৎসা কেন্দ্র। প্রশাসনিক মহলের খবর, পূর্ব ভারতে ‘বনতারা’-র ধাঁচে একটি নতুন শাখা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে অম্বানীদের। রাজ্য সরকার চাইছে এই মেগা প্রকল্পটিকে বাংলায় নিয়ে আসতে।

এর জন্য উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স অথবা রাঢ়বঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পুরুলিয়া সফরে গিয়ে দক্ষিণবঙ্গের প্রথম বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য গড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘোষণার সূত্র ধরেই রাজ্যে ‘বনতারা’ আসার জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, জমি-জট এবং শিল্পের পরিকাঠামোগত নানা কারণে বাংলায় বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনীহা দেখা গিয়েছিল। সিঙ্গুর থেকে টাটাদের বিদায়ের পর রাজ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী শিল্পখরা তৈরি হয়েছিল, তা মোচন করাকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে নতুন সরকার। সেই লক্ষ্যেই ঢেলে সাজানো হয়েছে রাজ্যের শিল্পনীতি। শুধুমাত্র অম্বানীরাই নয়, অন্যান্য শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গেও সমান্তরাল ভাবে কথা বলছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শিল্পপতিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

গত শনিবারই শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে ইতিবাচক বৈঠক করেছেন শমীক।

এই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর মুম্বই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দিন কয়েক আগেই একটি বহুজাতিক বিপণির উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই সাক্ষাতের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ক্ষ্মশীঘ্রই আমি অনন্ত অম্বানীর সঙ্গে বৈঠকে বসছি।ক্ষ্ম ফলে সোমবারের এই যাত্রা যে সেই পরিকল্পনারই চূড়ান্ত রূপ, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত শিল্পমহল।
যদিও নবান্ন বা অম্বানী গোষ্ঠীর তরফে সরকারি ভাবে এখনও বিনিয়োগ বা প্রকল্প নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। গোটা বিষয়টি ঘিরেই একপ্রকার গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, পরিকাঠামো বা পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে রিলায়েন্সের মতো বৃহৎ গোষ্ঠী বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখালে, তা রাজ্যের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির কাছে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন নির্ভর করছে রাজ্যের প্রস্তাব এবং অম্বানীদের নিজস্ব ব্যবসায়িক পরিকল্পনার উপর।