পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রবল বৃষ্টি, হঠাৎ নেমে আসা ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যায় মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্য। বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২ জন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেরালাজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সথীশন প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবহাওয়া দপ্তর (IMD) সোমবার রাজ্যের ৬টি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি করেছে।আরও পড়ুন:
সোমবার সকাল ৭টায় আবহাওয়া দপ্তর থেকে পরবর্তী ৩ ঘণ্টার জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় পথনামথিট্টা, আলাপ্পুঝা, কোট্টায়াম, ইদুক্কি, এরনাকুলাম এবং ত্রিশূর জেলায় 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি করা হয়। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং অতি ভারী বৃষ্টির (২৪ ঘণ্টায় ১১৫.৬ মিমি থেকে ২০৪.৪ মিমি) শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কোল্লাম, পালক্কাড ও কান্নুর জেলাতেও হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে একাধিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিলাঙ্কুর-আমারাম্বালাম এলাকার কোট্টাপুঝা নদীতে স্নান করতে নেমে হঠাৎ জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় এক দলের ৫ জন ভেসে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় ১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পরে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এখনও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী সঙ্গীতা আরুল লাল ভেগামন থেকে ফেরার পথে ভিলাথুসেরিতে ধসের মুখে পড়েন। তাঁর স্কুটারটি কাদার নিচে চাপা পড়লে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্কুটারে থাকা তাঁর সঙ্গী আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কোট্টাকাম্বুরে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে একটি সাময়িক শেডের নিচে আশ্রয় নেওয়া ৩ জনের ওপর পাহাড়ের ঢাল বেয়ে কাদামাটি ধসে পড়ে। এতে ২ জনের মৃত্যু হয় এবং ১ জন মহিলা গুরুতর আহত হন।আরও পড়ুন:
পরিস্থিতি জটিল থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বক্ষণ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ পার্বত্য এলাকা এবং নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।