মসজিদুল হারামের প্রবীণ মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম বিন আদেল আল-মাদানি ইন্তেকাল করেছেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার ফজরের সময় মক্কা নগরীতে তাঁর মৃত্যু হয়। হারামাইন শরিফাইনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানি মসজিদুল হারামের মুকাব্বিরিয়ার অন্যতম সদস্য ছিলেন।

মুকাব্বিরিয়ায় দায়িত্ব পালনকারী মুয়াজ্জিনরা আজান দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ইমামের তাকবির মুসল্লিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। মসজিদুল হারামে মোট ২৪ জন নিয়মিত মুয়াজ্জিন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিদিন ছয়জন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান এবং ফজরের প্রথম আজান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

বিশেষ করে ফজরের আজান ও তাকবির দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন শায়খ ইবরাহিম।

জানা গেছে, মসজিদুল হারামে তাঁর সর্বশেষ আজান ছিল ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরিতে। আজান, হজ ও ঈদের তাকবিরসহ তাঁর কণ্ঠের বিভিন্ন রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে।

শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানি ১৩৯৭ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক পরিবেশেই তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে আজান দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর মুয়াজ্জিন জীবনের সূচনা হয়।

১৪২৮ হিজরিতে তিনি মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহতে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৪৩৯ হিজরিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে শায়খ ইবরাহিম আল-মাদানি আজানের মাদানি রীতি ও সুরের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি তাঁর বাবা তাঁকে মক্কায় নিয়ে যাওয়ায় মক্কি আজানের স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গেও তাঁর পরিচয় ঘটে। মক্কায় অবস্থানকালে মসজিদুল হারামের সাবেক মুয়াজ্জিন শায়খ আবদুল লতিফ মুল্লার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। ফলে মক্কি ও মাদানি—দুই ধারার আজানের বৈশিষ্ট্য কাছ থেকে শেখার সুযোগ পান তিনি।