মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার কোচবিহার সফরে এসে জেলার উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কোচবিহারে পৌঁছে প্রথমে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন তিনি। এরপর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে জেলার পরিকাঠামো, যোগাযোগ, পর্যটন ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোচবিহারে এসে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়া এবং ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জেলার উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের তরফে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে অর্থের কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।আরও পড়ুন:
কোচবিহারের বিমান পরিষেবা নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন তিনি। আগামী ২৮ তারিখ কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেই বৈঠকে কোচবিহারের বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি ৯ মে ২০২৬ শপথ নিয়েছেন। ৯ মে ২০২৭ পর্যন্ত এক বছর সময়ের মধ্যে কোচবিহারবাসীর বহু প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
ইতিমধ্যেই ডিপিআর তৈরি, পরিকল্পনা এবং বরাদ্দের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রথম দফার টেন্ডারেও কোচবিহার জেলার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাজ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।আরও পড়ুন:
সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পিএম কিষান সম্মান নিধি এবং কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ভেরিফিকেশন-সহ বিভিন্ন কাজ একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
কোচবিহারকে পর্যটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উপরও জোর দেন তিনি।
উত্তরবঙ্গ, তরাই ও ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বন্যপ্রাণ এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের পাশাপাশি ধর্মীয় পর্যটকদেরও কোচবিহারে আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।আরও পড়ুন:
এই লক্ষ্যে রেল, সড়ক ও বিমান যোগাযোগ আরও উন্নত করার পাশাপাশি পর্যটকদের থাকার জন্য উন্নত মানের গেস্ট হাউস তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, তরাই-ডুয়ার্স বা টাইগার হিলের মতো কোচবিহারকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে কোচবিহারের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামাজিক প্রকল্প এবং পর্যটন পরিকাঠামো—এই চারটি ক্ষেত্রই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।