উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়  : পুজোর আগেই ঘরে ফিরছেন পার্বতী দেবী।প্রায় দু’মাস পর পরিবারের সঙ্গে মিলন হতে চলেছে ৬৭ বছরের এই বৃদ্ধার। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করল হ্যাম রেডিও এবং পুলিশের তৎপরতা।কয়েকদিন আগে কলকাতার একটি সরকারি হোমের পক্ষ থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাসের কাছে এক মহিলার পরিবারের খোঁজ করে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ আসে।হোম কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তির সাহায্যে শুরু হয় পার্বতী দেবীর পরিবারের খোঁজ।এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার হ্যাম রেডিওর প্রতিনিধি দিবস মণ্ডল অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে কাকদ্বীপের সীতারামপুর এলাকার একটি গ্রামে পার্বতী দেবীর বাপের বাড়ির সন্ধান পান। স্থানীয় বাজারে গিয়ে কয়েকজন প্রবীণ মানুষের কাছে তাঁর ছবি দেখানো হয়। তাঁদের মধ্যেই একজন ছবিটি দেখে পার্বতী দেবীকে চিনতে পারেন।

এরপর শুরু হয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্বতী মল্লিকের বয়স ৬৭ বছর। তাঁর বিয়ে হয়েছিল বজবজের মহেশতলার অশোক মল্লিকের সঙ্গে। মহেশতলার স্থানীয় বাজারে সব্জির দোকান চালাতেন তাঁর স্বামী। বাজার শেষ হওয়ার পর ঝাড়ু দেওয়া ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও করতেন তিনি। সেই আয়েই চলত সংসার। তবে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।
পার্বতী দেবীর দুই মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে মেদিনীপুরের সুতাহাটায়। ছোট মেয়ে কাজের সূত্রে মধ্যমগ্রামে থাকেন। দীর্ঘদিন বড় মেয়ের কাছেই থাকতেন পার্বতী দেবী। কয়েক মাস আগে ছোট মেয়ের কাছে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকেই আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান।পরবর্তীতে কলকাতার রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসার পর আদালতের নির্দেশে একটি সরকারি হোমে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় সেখানেই কেটে যায় প্রায় দু’টি মাস।অবশেষে হ্যাম রেডিওর উদ্যোগে পরিবারের সন্ধান মেলায় ফের স্বজনদের কাছে ফেরার পথ খুলে যায় পার্বতী দেবীর। মহালয়ার কয়েকদিন আগে ছোট মেয়ে পূজার কাছে ফিরছেন তিনি। মা দুর্গা মর্ত্যে আসার আগেই মায়ের ঘরে ফিরে আসায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া পরিবারে।পার্বতী দেবীকে ফিরে পাওয়ারআনন্দে পরিবারের সদস্যরা হ্যাম রেডিওর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।তাঁদের কথায়, দীর্ঘদিন পর পরিবারের এক সদস্যকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।অন্যদিকে, মানুষের পাশে থেকে এই ধরনের মানবিক কাজে যুক্ত থাকতে পেরে খুশি ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাসও।তিনি বলেন, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এই প্রয়াস আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।