জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নিজের প্রশাসনের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গাইলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, অন্য নেতারা যেখানে শুধু শান্তির কথা বলেছেন, সেখানে তাঁর প্রশাসন বাস্তবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ নিয়েছে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন ট্রাম্প। সেখানে মার্কিন শক্তি ও সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অন্যরা শুধু কথা বলেছে, আমি কাজ করে দেখিয়েছি।

অন্যরা শান্তির কথা বলেছে, আমি শান্তি স্থাপন করেছি।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র শক্তির মাধ্যমে নিজের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা করছে।

ভাষণের একটি বড় অংশজুড়ে ইরান প্রসঙ্গ উঠে আসে। ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।

চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে চুক্তিতে পৌঁছনোর সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চলেছে। জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।

ফলে একদিকে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনা—দুই বার্তাই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

ট্রাম্প তাঁর ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন নেতৃত্বের ভূমিকার কথাও জোর দিয়ে বলেন। হোয়াইট হাউসও তাঁর বক্তব্যের সারাংশে ‘মার্কিন শক্তি ও দৃঢ়তা’র ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং একই সময়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ফলে তাঁর বক্তব্যে সামরিক চাপ ও কূটনীতির পাশাপাশি এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও স্পষ্ট হয়েছে।