পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ গ্রেফতারির ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন ভিনরাজ্যী। পুরীর একটি হোটেলে আত্মগোপ্নন করেছিলেন। কিন্তু এত কিছু করেও শেষ রক্ষা হল না। অবশেষে বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে পাকড়াও করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খরব পেয়ে পুরীর ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে দিলীপকে আটক করে। তাঁকে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
দিলীপকে এরাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।আরও পড়ুন:
ভোটের ফল প্রকাশের পর দিলীপ মণ্ডলকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়। সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে তাঁকে বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করতে শোনা যায় বলে অভিযোগ। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়। এর কিছুদিন পর তাঁর পৈলানের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়।
সকালে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। সেই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তদন্তকারীরা বাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেন। বাড়িতে ঢুকে বিধায়কের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা দেখে কার্যত হতবাক হয়ে যায় পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বিধায়কের বাড়িতে একাধিক দামী গাড়ি, সুইমিং পুল, দোলনা-সহ কাঠের আসবাবপত্র তো রয়েইছে, সেইসঙ্গে তাঁর বাড়িতে রয়েছে একটি আস্ত চিরিয়াখানা, এমনকি একটি গুহাও রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকেই প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি দিলীপ মণ্ডলকে।আরও পড়ুন:
এরই মধ্যে তাঁর ছেলের খোঁজেও অভিযান চালানো হয়। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে তাঁকে-সহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলেও তদন্তকারীদের দাবি। ওই ঘটনার পর থেকেই দিলীপ মণ্ডলের খোঁজে আরও জোরদার তল্লাশি শুরু হয়।পরে তিনি আইনি সুরক্ষার দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তবে সেই সময়েও তিনি প্রকাশ্যে ছিলেন না। তদন্তের মাঝেই জানা যায়, তিনি রাজ্যের বাইরে চলে গিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কয়েকদিনের খোঁজাখুঁজির পর পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হল। এই গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।