পুবের কলম, নয়াদিল্লি: সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যানডাইক-কে চার মাসের জন্য দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের মোদি সরকারকে তীব্র নিশানা করল কংগ্রেস। বিরোধীদের প্রশ্ন, যেখানে সামান্য প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ভারতীয় যুব ও আন্দোলনকারীদের আটক করা হচ্ছে, সেখানে সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এক বিদেশি নাগরিককে কেন এই বিশেষ সুবিধা ও ছাড় দেওয়া হচ্ছে? কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্স-এ লিখেছেন, "ভারতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর চক্রান্তের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যানডাইক-কে চার মাসের জন্য দেশে ফেরার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত একজন বিদেশি নাগরিককে সরকার কেন এই ধরনের স্বাধীনতা দিচ্ছে?

"

শুক্রবার দিল্লির একটি বিশেষ আদালত এনআইএ-র তদন্তাধীন এই মামলায় ভ্যানডাইক এবং আরও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে আগামী ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের বাইরে অবস্থান করার অনুমতি বৃদ্ধি করে। বিশেষ বিচারক প্রশান্ত শর্মা শুনানির পর এই নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, প্রাথমিকভাবে এনআইএ তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ‘বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন’ বা ইউএপিএ-র চরম চক্রান্তকারী ধারা প্রয়োগ করলেও, চার্জশিট জমা দেওয়ার সময় সেই ধারাগুলি বাদ দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট’-এর সামান্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির সঙ্গে বৈঠকে ভ্যানডাইকের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। এর পরেই গত ৮ সেপ্টেম্বর ভ্যানডাইকের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারা প্রত্যাহার করা হয়। কংগ্রেস নেতার কথায়, মার্কিন প্রশাসনিক চাপে কেন্দ্রীয় সরকার নতিস্বীকার করেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সাথে আপস করে বিদেশি নাগরিকদের এভাবে রেহাই দেওয়া চরম উদ্বেগের বিষয়।