পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:কাশ্মীরের মাটিতে দাঁড়িয়ে রীতিমতো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সুরে কথা বলার অভিযোগ উঠল জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বারামুল্লার একটি জনসভায় তিনি মন্তব্য করেন, প্রতিবেশী দেশের জন্যই আজ কাশ্মীরিরা বেঁচে রয়েছেন। ভারত সরকারের যা মানসিকতা, তাতে প্রতিবেশীদের চাপ না থাকলে কাশ্মীরিদের অস্তিত্বই মুছে যেত। তাঁর এই উসকানিমূলক মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপি।
বারামুল্লার সভায় উপত্যকার বাসিন্দাদের উদ্দেশে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা বলেন, দিল্লির কাছ থেকে সুবিচারের কোনও প্রত্যাশা রাখা উচিত নয়।

নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কাশ্মীরিদের লড়াই করার সাহস সঞ্চয় করতে হবে। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন ফোরামে প্রতিবেশীরা (পরোক্ষে পাকিস্তান) কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সরব বলেই আজ ভারত সরকার চুপ করে আছে। অন্যথায় কাশ্মীরিদের মুছে ফেলা হতো। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এহেন ভারত-বিরোধী মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
একাধিক সাংবিধানিক পদে থাকা নেতার মুখে এমন কথা শুনে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপি নেতা রবীন্দ্র রায়না এর কড়া জবাব দিয়ে বলেন, নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারের কাশ্মীরিদের দুরবস্থা দেখলেই বোঝা যায় পাকিস্তান তাঁদের কত যতে্নে রেখেছে। তাঁর দাবি, ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ভারতের অধীনে কাশ্মীর বর্তমানে উন্নতির পথে হাঁটছে এবং দেশের মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। অনেকেই সেই উন্নতি সহ্য করতে পারছেন না। ফারুক আবদুল্লার এই উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন রবীন্দ্র। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, স্রেফ স্থানীয় রাজনীতির স্বার্থে ফারুকের এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত-বিরোধী শক্তিগুলিকেই মদত জোগাবে।