পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: চোরবাগান মণ্ডপে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটা মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তদন্তে এবার ধৃত দুই ঘোষকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তদন্তকারীরা। পুলিশের মূল উদ্দেশ্য, দুর্ঘটনার আগে মণ্ডপে মাইক মারফত যে ভুয়ো ঘোষণা করা হয়েছিল, তার সঙ্গে ধৃত সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়ার গলার স্বর মিলছে কি না, তা নিশ্চিত করা। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনার সময়কার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ চিহ্নিত করেছেন, যেখানে নির্দেশমূলক ঘোষণা স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে। আদালতের অনুমতি পেলে ধৃতদের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করে ওই অডিওগুলির সঙ্গে ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখা হবে। বর্তমানে ভুয়ো ঘোষণার অভিযোগে ধৃত পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সেন্টু আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।


তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে আরও একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, মণ্ডপের প্রস্থানের পথে বিনা অনুমতিতেই বেশ কিছু স্টল বসানো হয়েছিল। অন্যদিকে, চোরবাগান সর্বজনীনের থিমের কারণে মণ্ডপের ভিতরের শব্দ বাইরে বা বাইরের শব্দ ভিতরে পৌঁছনোর সুযোগ ছিল না। তা সত্ত্বেও বাইরের দর্শনার্থীদের উদ্দেশে কেন মণ্ডপ ভেঙে পড়ার মতো ভুয়ো ঘোষণা করা হল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে ঘোষণার সময় মিলিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা চলছে।
পাশাপাশি, আহত ব্যক্তিসহ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০-৭০ জনের বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ।
এদিকে, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকার যে অভিযোগ উঠেছিল, তা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করেছে লালবাজার। পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় এক জন ইন্সপেক্টরের অধীনে ৫০ জন অস্থায়ী হোমগার্ড, পুলিশ, ভলান্টিয়ার ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন সেখানে মোতায়েন ছিলেন। ভিড় বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে দু'জন আইপিএস পদমর্যাদার ডেপুটি কমিশনারকেও সেখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। এছাড়াও, পুজোর আগে পুলিশের পোর্টালে জমা দেওয়া লিখিত বন্দোবস্তের সঙ্গে বাস্তবের আয়োজনের কতটা মিল ছিল বা কমিটি কতটা নিয়ম লঙ্ঘন করেছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে অনুমতিপত্র চেয়ে তা-ও খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।