বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারতের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ১২২টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১০০তম। ক্ষুধা ও অপুষ্টির সূচকে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ভারত। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তুলনায় ভারতের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পুষ্টি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে শিশুদের অপুষ্টির বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের জনসংখ্যার ৯.৮ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে ২৯.৩ শতাংশের বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। অন্যদিকে, ১৯ শতাংশ শিশুর উচ্চতার তুলনায় ওজন কম।

পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুর হার ২.৭ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারতের স্কোর ২৪.১, যা বৈশ্বিক গড় ১৮.১ এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক গড় ২৩.৫-এর চেয়ে বেশি। এই সূচকে স্কোর যত বেশি, ক্ষুধার পরিস্থিতি তত গুরুতর বলে বিবেচিত হয়। ভারতের স্কোরকে ইথিওপিয়ার সমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উভয় দেশই গুরুতর ক্ষুধার শ্রেণিতে রয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

তুলনামূলক পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের স্কোর ১৯.২, নেপালের ১৪.৫ এবং শ্রীলঙ্কার ১০.২। অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্কোর ২৫.৫ এবং আফগানিস্তানের ২৮.৬। অর্থাৎ, এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী ক্ষুধা সূচকে ভারত বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার পিছনে থাকলেও পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।

বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে মূলত চারটি বিষয়ের ভিত্তিতে ক্ষুধার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়—জনসংখ্যার অপুষ্টি, শিশুদের বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা, উচ্চতার তুলনায় কম ওজন এবং পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুহার। এই সূচকগুলির মাধ্যমে একটি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।