পুবের কলম প্রতিবেদক, বসিরহাট: নলেন গুড়ের রসগোল্লা পছন্দ না হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বচসা, গন্ডগোল ও মারধোরের ঘটনায় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চলায় এক ক্রেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। রবিবার রাতের এই ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মূল দুষ্কৃতী ব্যোমকেশ মৃধা ওরফে বুধোকে গ্রেফতার করল বসিরহাট থানার পুলিশ। অন্যদিকে কুড়ি লিটার তরল মাদকসহ কুখ্যাত দুষ্কৃতী মেঘনার দাস ওরফে ভোলাকে গ্রেফতার করেছে স্বরূপনগর থানার পুলিশ। দুই দুষ্কৃতীর বাড়ি বসিরহাটের রাজীব কলোনি পাড়া এলাকায়।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট থানার কলেজ পাড়ায় টাকি রোডের ধারে তাপস মণ্ডলের মিষ্টির দোকানে রবিবার রাত আটটা নাগাদ বেশ কয়েকজন যুবক মিষ্টি খেতে আসে।
মিষ্টিতে নলেন গুড়ের কোন গন্ধ ছিল না বলে প্রতিবাদ করলে মিষ্টি ব্যবসায়ী তাপস মণ্ডলের সঙ্গে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, বচসা মারধোরের ঘটনা ঘটে। এই নিয়ে ব্যবসায়ী যুবকদের মধ্যে ঘটনার চরমে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী মোটরসাইকেলে এসে দোকানের সামনে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। সেই সময় ওই দোকান থেকে মিষ্টি কিনছিলেন এক ক্রেতা। বছর ৪৫ এর নবীন কুমার দাস নামে ওই ব্যক্তির বাঁদিকের কোমরে গুলি লাগে বলে জানা যায়। এর পরপরই দুষ্কৃতীরা এলাকা থেকে চম্পট দেয়। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুলি কাণ্ডে আহত নবীন কুমার দাস পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতা আর জি কর মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলেজপাড়া এলাকায়। অন্যদিকে নবীন কুমার দাসের কোমর থেকে গুলি বের করলেও সংকট এখনও কাটেনি। এই ঘটনায় বসিরহাটের রাজিব কলোনী থেকে ব্যোমকেশ মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে বসিরহাট থানার পুলিশ।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, স্বরুপনগর থানার বিথারী হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের স্বরূপদহ এলাকা থেকে মেঘনাথ দাস ওরফে ভোলাকে কুড়ি লিটার তরল মাদকসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাদক কান্ডে ধৃতকে বারাসত জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যোমকেশ মৃধাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়।ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এই দুই দুষ্কৃতীর বাড়ি বসিরহাট থানার রাজীব কলোনি এলাকায়। রবিবার রাতে বসিরহাট কলেজ পাড়ায় মিষ্টির দোকানে গুলি চালানোর ঘটনায় এই দুই দুষ্কৃতির সঙ্গে পারস্পরিক কোন যোগসূত্র আছে সেটাও তদন্তকারীরা একবার দেখে নিতে চাইছে।