যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানে নতুন করে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তেহরানের এই বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
আরও পড়ুন:
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নিরসনে আলোচনায় যুক্ত কট্টরপন্থি রাজনীতিক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মদির দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নতুন করে হামলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। তবে সম্ভাব্য অভিযানে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
মোহাম্মদির বক্তব্য, ইরান সম্ভাব্য পরবর্তী যুদ্ধকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। তাই নতুন করে সংঘাত শুরু হলে যুদ্ধের সময়সীমা ও ভৌগোলিক সীমা মেনে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে না—এমন কৌশল নিতে পারে তেহরান। ইরানের দাবি, তাদের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় আঘাত হানা হলে হামলায় সহায়তাকারী পক্ষগুলির অর্থনৈতিক স্বার্থও নিরাপদ থাকবে না।
আরও পড়ুন:
বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবে তৎপরতা চলছে।
সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, তেল পরিকাঠামো এবং পারমাণবিক কেন্দ্র সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তবে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সময়সূচি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।আরও পড়ুন:
ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানের উড়ানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই তৎপরতার সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতেও। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর দাবি, বুধবার প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। জাহাজগুলির মধ্যে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে আরও তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইআরজিসি। তবে এসব ঘটনার বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।আরও পড়ুন:
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩.৪ ডলারে পৌঁছনোর কথা বলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহণ হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইরানের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রেজা নাসরির সতর্কবার্তা, সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড, লবণাক্ত জল পরিশোধন কেন্দ্র, তেল শোধনাগার ও বন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলিতে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাব ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য বড় সংঘাতের জন্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা বা বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে পাল্টা হামলা শুধু সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনাও চলছে। ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা চলতি সপ্তাহে ফের আলোচনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়া, বোমা হামলার শিকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশের সুযোগ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত তৃতীয় কোনও দেশে পাঠানোর প্রস্তাব রয়েছে। এর বিনিময়ে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে, ইরান, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বিত নীতি নির্ধারণের লক্ষ্যে ইস্তাম্বুলে কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকের কথা রয়েছে। তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিশরের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ইউরোপের তিনটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও এতে যোগ দিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সব মিলিয়ে, একদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা—দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব শুধু ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।