পুবের কলম, রিয়াদ: চলতি ২০২৬ সালে সৌদি আরবে আশঙ্কাজনক হারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কঠোর প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশটিতে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড রেকর্ড করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস’। এই পরিসংখ্যানের বাইরে সম্প্রতি মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো এ বছরও বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় সৌদি আরবের শীর্ষ অবস্থান বজায় রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইএসওএইচআর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছেছে, যা দেশটির পূর্ববর্তী যেকোনো শাসনামলের তুলনায় সর্বোচ্চ রেকর্ড। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বছরের প্রথমার্ধে মোট কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৫৪ শতাংশই ছিল বিদেশি নাগরিক। ১৭টি ভিন্ন দেশের মোট ৫৯ জন বিদেশি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে সৌদি নাগরিক ছিলেন ৪৯ জন (৪৬ শতাংশ)।
আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশিদের তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, সুদান, ইয়েমেন, সিরিয়া, জর্ডান, সোমালিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, বেনিন, ইরাক, কুয়েত, কেনিয়া, উগান্ডা ও আফগানিস্তানের নাগরিকেরা।
মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, সৌদি বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতার তীব্র অভাব রয়েছে। মোট ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৯১টি ক্ষেত্র (৮৪.২ শতাংশ) সম্পর্কে কার্যকরের আগে কোনো তথ্য বা নথি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির হাতে পৌঁছায়নি। গোপনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার এই নীতি প্রমাণ করে যে সেখানে আইনি প্রক্রিয়া ও বন্দীদের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। তাছাড়া মোট সাজার প্রায় ৭৭.৭ শতাংশই কার্যকর করা হয়েছে বিচারকদের একক বিবেচনামূলক ক্ষমতা বা ‘তাজির’ নীতির ওপর ভিত্তি করে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।