পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শীতের শুরুতেই ফের দূষণের কবলে রাজধানী দিল্লি। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়েই শহরের বাতাসের মান ‘খারাপ’ পর্যায়ে নেমে গিয়েছে। বুধবার দুপুরে দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ২৫৫-এ পৌঁছতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে জিআরএপি (গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান) ১-এর আওতায় একগুচ্ছ কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিশন।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা জানিয়েছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে একাধিক কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

এখন থেকে বৈধ ‘পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল’ বা পিইউসি শংসাপত্র না থাকলে কোনও গাড়িতে জ্বালানি দেওয়া হবে না। রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমাতে মেট্রো স্টেশন ছাড়া শহরের বাকি সমস্ত জায়গায় পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হচ্ছে। যানজট এড়াতে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং সরকারি অফিসগুলিতে কর্মীদের কাজের সময়সূচিতে বদল আনা হবে। পাশাপাশি, পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।
তবে পরিবেশমন্ত্রীর দাবি, বিগত কয়েক বছরের নিরিখে এবার দিল্লিতে দূষণ বিধি তুলনামূলকভাবে দেরিতে লাগু করা হল।
যান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শহরজুড়ে নির্মাণকাজ এবং বাড়ি ভাঙার উপরও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো বা আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধুলোবালি উড়তে না দেওয়ার জন্য পুরো দিল্লিতে ৬০৮টি অ্যান্টি-স্মগ গান এবং ১১৫০টি মিস্ট-স্প্রে ইউনিট নামানো হয়েছে। এছাড়াও জিআরএপি ১-এর নিয়ম অনুযায়ী রাস্তায় নিয়মিত যন্ত্রের সাহায্যে ঝাড়ু দেওয়া, জল ছেটানো এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর কড়া জোর দেওয়া হচ্ছে। শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ইটভাটাগুলি যাতে নিয়ম ভেঙে দূষণ ছড়াতে না পারে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা যাতে মসৃণ থাকে, সেদিকেও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।