পুবের কলম, মুম্বই: ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (ইউএই) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা কৌশলগত রূপ নিচ্ছে। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে এ কথা জানান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

ভারত-আমিরশাহি সম্পর্কের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আজ পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রত্যাশা পূরণ করছে। বিশ্বজুড়ে নানা প্রতিকূলতা এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন নজির তৈরি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চলতি বছরে দুই দেশের মধ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সফর ও বৈঠক হয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর। জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ভারত সফর করেন। ফেব্রুয়ারিতে আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নেতৃত্বে আমিরশাহির প্রতিনিধিদল এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে যোগ দেয়। পরে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও অংশ নেয় ওই প্রতিনিধিদল। ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অষ্টমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর করেন।

বিদেশমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পারস্পরিক বিনিয়োগও বাড়ছে। এতে দুই দেশের অর্থনীতির প্রতি ব্যবসায়িক মহলের আস্থার প্রতিফলন ঘটছে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা ক্রমশ কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করছে। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক অংশীদারত্বও সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর।

তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নতিতে ভারত ও আমিরশাহি একযোগে কাজ করবে এবং আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সমস্ত প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাবে। বাণিজ্য, জ্বালানি এবং সারের অবাধ, নিরাপদ ও বাধাহীন সরবরাহ নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য আমিরশাহির নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান ভারতের বিদেশমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে শেখ আবদুল্লাহ এবং তাঁর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত তাঁদের দ্বিতীয় ঘর। এরপর আমিরশাহির বিদেশমন্ত্রীকে বৈঠকের সূচনাপর্বে বক্তব্য রাখার আমন্ত্রণ জানান তিনি।

মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভারত-আমিরশাহি সম্পর্কের বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জ্বালানি ও বাণিজ্য সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান গুরুত্ব পেয়েছে।