পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্য। এই চরম বিপর্যয়ের পর মঙ্গলবার নবমীর দিন বর্ধমানের মাধবডিহিতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি নিহত সন্দীপ বেজ এবং তাঁর মা টগর বেজের বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যদের হাতে রাজ্য সরকারের তরফে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেন তিনি।

পাশাপাশি, কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতির অধীনে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে দ্রুত এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টি ও ভিড়ের চাপে চোরবাগান মণ্ডপের গেট ভেঙে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। কলকাতার এই বিখ্যাত পুজো দেখতে গিয়ে প্রাণ হারান বর্ধমানের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সন্দীপ এবং তাঁর মা টগর বেজ। মঙ্গলবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী যখন মাধবডিহির ওই বাড়িতে পৌঁছন, তখন নিহতদের শেষকৃত্য চলছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়া শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক এবং দলের জেলা সভাপতি।
নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে বিগত সরকারের কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অতীতের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু কিংবা ২০২৬ সালে দার্জিলিঙের হড়পা বানে প্রাণহানির পরেও রাজ্যে উৎসব বা পুজো কার্নিভাল বন্ধ হয়নি। এমনকি সেই সময় মৃতদের পরিবারকে এমন কোনও আর্থিক সাহায্যও দেওয়া হয়নি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আগের সরকারের মতো কথা বলেন না জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাঁদের নতুন করে কোনও কর্তব্য শেখানোর প্রয়োজন নেই।