পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে চরম আকার ধারণ করেছে গণবিক্ষোভ। শিক্ষাক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র আবাসন সংকটের প্রতিবাদে স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও ইতালিসহ ইউরোপের একাধিক দেশে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার তরুণ ও সাধারণ মানুষ। ফ্রান্সে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ গত শনিবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। একই দিনে ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
ফ্রান্সে মূলত শিক্ষক সংকট, দীর্ঘ ক্লাস, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্বচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা প্রথমে রাস্তায় নামেন।

পরে ইরানে মার্কিন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপক হারে বেড়ে যায়, যার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনে যোগ দেন। ফ্রান্সের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিজিটি এই বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে দ্রব্যমূল্য হ্রাস এবং মজুরি ও পেনশন বৃদ্ধির দাবি তুলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফরাসি সরকার অতিরিক্ত তিন হাজার খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত ফি বাতিল এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা করেছে। সংকট সমাধানে জরুরি বৈঠক করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাঙচুর ও লুটপাটের জন্য কট্টর বামপন্থীদের দায়ী করে বিক্ষোভকারীদের আর ছাড় না দেওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছেন।

স্পেনে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় গত সেপ্টেম্বরে বাড়িভাড়া মারাত্মক হারে বৃদ্ধির প্রতিবাদে। মারিকারমেন আবাসকাল নামের ৮৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার বাড়িভাড়া একটি বিনিয়োগ তহবিল ২৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ার পর তিনি উচ্ছেদ হন এবং কয়েক দিন পর হাসপাতালেই মারা যান। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্পেনে বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা বাড়িভাড়া কমানো এবং বিনিয়োগ তহবিলের সম্পত্তি কেনায় নিষেধাজ্ঞার জোর দাবি তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় জরুরি আবাসন আইন পাসের চেষ্টা করেও ডানপন্থীদের বিরোধিতায় ব্যর্থ হন।
এর জেরে নতুন সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে আগাম নির্বাচনের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রায় একই দাবিতে পর্তুগালের লিসবনেও রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। দেশটিতে গত কয়েক বছরে বাড়ির দাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
অন্যদিকে ইতালির মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলন একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ার পাশাপাশি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেন। পাশাপাশি আলবেনিয়াতেও প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের অভাবের অভিযোগে টানা বিক্ষোভ চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সমর্থনপুষ্ট একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে গ্রীষ্মকাল থেকেই দেশটিতে এই অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। ইউরোপের এই সার্বিক অস্থিতিশীলতা সেখানকার সরকারগুলোর জন্য বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।