পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মেটার মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের রেকমেন্ডেশন সিস্টেম যাতে ব্যবহারকারীদের কাছে কোনো নির্দিষ্ট বা একপেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক ন্যারেটিভকে অযাচিতভাবে বেশি না তুলে ধরে, তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। গত ১০ অক্টোবর জারি করা এই অ্যাডভাইজরিতে সহিংসতা উসকে দিতে পারে কিংবা জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে পারে—এমন বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক পোস্টের ওপর নজরদারি এবং অ্যালগরিদমিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

আইটি মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, একাধিক সরকারি সংস্থার রিপোর্টে উঠে এসেছে যে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলি সমস্ত মতামত ও তথ্যকে সমানভাবে তুলে ধরছে না। বরং তাদের অ্যালগরিদম কোনো নির্দিষ্ট এক ধরনের বিষয়বস্তুকে বা ন্যারেটিভকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ‘আইটি রুলস, ২০২১’ ও ‘আইটি অ্যাক্ট, ২০০০’-এর দোহাই দিয়ে মেটাকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। রেকমেন্ডেশন সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো একপেশে ন্যারেটিভ বা অসম্পূর্ণ তথ্য যাতে ব্যবহারকারীদের কাছে বারবার রেকমেন্ড না করা হয়। কোনো সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ, সহিংসতা, পুলিশি পদক্ষেপ বা জরুরি অবস্থার ভিডিও ও ছবির ক্ষেত্রে সঠিক তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করে তার বস্তুনিষ্ঠ প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করা। পুরোনো ভিডিও বা এডিটেড ছবিকে বর্তমান ঘটনার নাম দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধে অ্যালগরিদম রিভ্যাম্প করা।

তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য ও সহায়তা প্রদান করা।

সরকারের এই অ্যাডভাইজরিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। ডিজিটাল অধিকার সংক্রান্ত গবেষণা সংস্থা ‘ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অপার গুপ্ত সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আইনিভাবে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এই নির্দেশিকা বস্তুত একটি "পরোক্ষ ডিজিটাল সেন্সরশিপ নির্দেশিকা"।