পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কোনও মহিলার গায়ের উপর শুয়ে পড়া বা তাঁর মুখ চেপে ধরা নিঃসন্দেহে আপত্তিকর এবং অপরাধমূলক কাজ। তবে শুধুমাত্র এই কাজের ভিত্তিতেই বলা যায় না যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই মহিলাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণের জন্য আরও জোরালো প্রমাণের প্রয়োজন। সম্প্রতি ২০১০ সালের একটি পুরনো মামলার রায় দিতে গিয়ে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল পাটনা হাই কোর্ট।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা নাগাদ এক বিধবা মহিলা নিজের বাড়িতে ঘুমোচ্ছিলেন।

অভিযোগ, সেই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর ঘরে ঢুকে আলো নিভিয়ে দেন এবং মহিলার গায়ের উপর শুয়ে পড়ে তাঁর মুখ চেপে ধরেন। তবে মুখ চেপে ধরার আগেই ওই মহিলা তারস্বরে চিৎকার করে ওঠেন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। এরপরই ওই ব্যক্তি ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। দীর্ঘ শুনানির পর ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই নিম্ন আদালত ওই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে। ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে চার বছর এবং অন্যের বাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশের দায়ে ছ’মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে নিম্ন আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পাটনা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ওই অভিযুক্ত। আদালতে তাঁর দাবি ছিল, তিনি ধর্ষণের কোনও চেষ্টা করেননি এবং অভিযোগকারিণীর বয়ানেও স্পষ্ট প্রমাণের অভাব রয়েছে। মামলার শুনানিতে হাই কোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল, অভিযুক্তের ওই কাজ আদৌ ধর্ষণের চেষ্টা নাকি নিছকই শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আদালত জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের বা ওই মহিলার পোশাক খুলেছিলেন কিংবা জোরপূর্বক যৌনসঙ্গমের চেষ্টা করেছিলেন— এমন কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। ফলে এটিকে নিশ্চিতভাবে ধর্ষণের চেষ্টা বলা যায় না। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই অভিযুক্তের সাজার মেয়াদ কমিয়ে তিনি ইতিমধ্যে যতদিন জেলে কাটিয়েছেন, তার মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।