কলকাতার দুর্গাপুজোয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে ভিড়ের চাপে গেটের একাংশ ভেঙে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের মধ্যে পাঁচ বছরের এক শিশুও রয়েছে। আহত ১৫ জন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে শহরজুড়ে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। দিনভর বৃষ্টির পর সন্ধ্যায় ফের বৃষ্টি শুরু হলেও বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই সময় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে হুড়োহুড়ির জেরে গেটের একাংশ ভেঙে পড়ে বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

রাতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আহতদের দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, এই ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের পাশাপাশি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মাইকে ঘোষণা করার পরই দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সেই পরিস্থিতি থেকেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে পুজো কমিটির সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী এবং কর্তব্যরত কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

দুর্ঘটনার পর চোরবাগানের পুজো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল ফরেন্সিক ও দমকল বিভাগের তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে।

চোরবাগানের দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারপিছু দু’লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আগামী রবিবার পশ্চিমবঙ্গে নির্ধারিত সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করেছেন অমিত শাহ। আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শোকবার্তায় মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দুর্ঘটনার পর দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কলকাতার একাধিক বড় পুজোমণ্ডপে প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উৎসবের মরশুমে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ শহর। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, নিরাপত্তার ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।