পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পুজোর আনন্দের মাঝেই সপ্তমীর সন্ধ্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী হল তিলোত্তমা। শনিবার তুমুল বৃষ্টির মধ্যে ভিড়ের চাপে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন দর্শনার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের সকলকেই উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত মণ্ডপের প্রবেশদ্বার দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


শনিবার সপ্তমীর দুপুর থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। বিকেলের দিকে কিছুটা বিরতির পর সন্ধ্যায় ফের বৃষ্টি নামে। কিন্তু বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ছাতা মাথায় প্যান্ডেল হপিংয়ে মেতেছিলেন উৎসবপ্রেমী সাধারণ মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, বাইরে বৃষ্টির বেগ বাড়তে থাকায় মণ্ডপের বাইরে থাকা বহু মানুষ একসঙ্গে ভিতরে ঢুকে আসতে চান। এর ফলে মণ্ডপের দু’টি গেটের উপরই মাত্রাতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং একটি গেটের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।
সমাজমাধ্যমে মণ্ডপটি ভাইরাল হওয়ায় এই বছর চোরবাগান সর্বজনীনে ব্যাপক ভিড় হচ্ছিল, যা এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের তরফে এই সংক্রান্ত সঠিক খবরাখবর জানতে ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ নম্বরে একটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কলকাতার আরেক বিখ্যাত পুজো মণ্ডপ ত্রিধারা সম্মিলনীর দরজাও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। উৎসবের মাঝে এমন বিপর্যয়ের খবরে সমাজমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।