পুবের কলম, নয়াদিল্লি: এতদিন পর এসে ভোটার তালিকা প্রকাশ সংক্রান্ত নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল নির্বাচন কমিশন। আগামী বছরের শুরুতে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে এমন ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বার্ষিক বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন বা এসএসআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলিকে এবার থেকে সহজে পড়তে সক্ষম ডিজিটাল ফরম্যাটে ভোটার তালিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এই ইউ-টার্ন বা ভোলবদলকে ‘খুব সামান্য এবং অনেক দেরিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। একইসাথে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকা জারির পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি ভেনুগোপাল সোশাল মিডিয়ায় তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি আগে যে ক্ষতি করেছে, এই পদক্ষেপে তা শুধরে যাবে না। কংগ্রেস নেতা এক্স-এ লেখেন, "জ্ঞানু, এতে কাজ হবে না ভাই। আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হতে হবে।"  তিনি জানান, কংগ্রেস দল দীর্ঘকাল ধরে অর্থাৎ ২০২৫ সাল থেকেই মেশিন-রিডেবল বা পড়তে সক্ষম ডিজিটাল ভোটার তালিকার দাবি জানিয়ে আসছিল।

নির্বাচন কমিশনের এই স্বচ্ছতার ন্যূনতম পদক্ষেপ অতীতে তাদের নেওয়া ভুল ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলির দায় থেকে তাদের মুক্ত করতে পারবে না। কংগ্রেসের অভিযোগ, “ভোট চুরি”-র কারণে দেশের প্রায় ১৩ কোটি নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একে দেশের সঙ্গে 'বিশ্বাসঘাতকতা' হিসেবে আখ্যা দিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তনের দাবি তুলেছে হাত শিবির। প্রসঙ্গত, নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলি ছবি ছাড়া ‘রিডেবল পিডিএফ’ ফরম্যাটে খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হাতে পাবে, যা আগের ইমেজ-বেসড পিডিএফের চেয়ে অনেকটাই সহজতর হবে।