পুবের কলম, বেঙ্গালুরু: বেলগাভিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলাকালীন ১৯৩ জন মুসলিম ভোটারের নাম তালিকা থেকে বেআইনিভাবে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আইনি স্বস্তি পেলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা রবি পাটিল এবং তাঁর দুই সমর্থক। ওই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান পুলিশি তদন্তের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে কর্নাটক হাইকোর্ট। 

কর্নাটক হাইকোর্টের বিচারপতি ভেঙ্কটেশ নায়েক টি-এর একক বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এর আগে গত ৯ অক্টোবর এই হাইকোর্টেরই অপর একটি কোঅর্ডিনেট বেঞ্চ ঠিক একই ধরনের সমজাতীয় মামলায় তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। সেই বিচারিক শৃঙ্খলা বজায় রেখেই বর্তমান মামলার ক্ষেত্রেও পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তদন্ত প্রক্রিয়া স্থগিত রাখাই যথাযথ বলে মনে করেছে আদালত।

পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া এফআইআর-এ অভিযোগ করা হয়েছিল, বিজেপি নেতা রবি পাটিল এবং তাঁর ২০ থেকে ২৫ জন অনুসারী মিলে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বেলগাভি এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটারদের টার্গেট করেন। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলার জন্য অনৈতিক ও বেআইনি চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই অভিযোগগুলি বর্তমানে নিছকই অভিযোগের স্তরে রয়েছে এবং আইনি তদন্তের সাপেক্ষ বিষয়। আদালতের রায়ের আগে এই অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এম অরুণা শ্যাম আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, হাইকোর্ট এর আগেই সমজাতীয় অন্যান্য মামলায় পুলিশের তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ মঞ্জুর করেছে। এর আগে গত ৮ অক্টোবর অপর একটি বেঞ্চ এই মামলায় অভিযুক্ত রবি পাটিল ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কড়া বা জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল। সাম্প্রতিক এই আদেশের ফলে অভিযুক্তরা আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুরক্ষা পেলেন।

একইসঙ্গে হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে স্বাধীনতা দিয়েছে, যদি পরিস্থিতির প্রয়োজনে এই অন্তর্বর্তী আদেশের পরিবর্তন বা তা বাতিল করার প্রয়োজন হয়, তবে তারা যেন যথাযথ আইনি আবেদন পেশ করে। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই সংবেদনশীল আবহে কর্ণাটক হাইকোর্টের এই রায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে।