ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানাতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। এই উদ্দেশ্যে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। তাতে রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিরোধী নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে রবিবারই প্রধান বিচারপতি তাঁদের সাক্ষাতের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। এর পর সোমবারের প্রস্তাবিত মিছিল আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

সূত্রের খবর, বিরোধী প্রতিনিধিদের আবেদন খারিজ করার পিছনে প্রধান বিচারপতি চারটি যুক্তি তুলে ধরেছেন। প্রথমত, এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে একাধিক বিষয় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। তাই বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আদালতের বাইরে আলাদা করে আলোচনা করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, অভিযোগগুলির ভিত্তিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করার বিষয়টি আদালতের প্রশাসনিক এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না বলে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন। তৃতীয়ত, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ-সহ প্রাসঙ্গিক সাংবিধানিক বিধানের অধীনে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা রয়েছে।

সেই পথে কোনও আবেদন বা মামলা দায়ের করা হলে তা আদালতের নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে বিরোধীদের জানানো হয়েছে। চতুর্থত, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি আশ্বস্ত করেছেন, আইনসম্মত প্রতিকারের জন্য আদালতের দরজা খোলা রয়েছে।

এদিকে, কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোমবারের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য নাগরিক সমাজ, ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুপুর দেড়টা নাগাদ দিল্লির কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। বিরোধী নেতাদের পক্ষ থেকে বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হওয়ার পর কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিরোধী শিবিরের তরফে এখনও স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

সম্ভাব্য মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশও নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।