পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সাঙ্গরুর জেলায় নিজের বাসভবনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-এর সাম্প্রতিক তল্লাশি অভিযান ও তদন্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) রাজবীর সিং ঘুমান। দুর্নীতি দমন আইনের সুনির্দিষ্ট ১৭এ ধারা অনুযায়ী রাজ্য সরকারের আগাম বাধ্যতামূলক অনুমোদন না নিয়েই সিবিআই বেআইনিভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে আদালতে দায়ের করা পিটিশনে অভিযোগ করেছেন তিনি।

গত ৫ অক্টোবর রাতে হাইকোর্টের নির্দেশের পর সিবিআই তড়িঘড়ি এফআইআর রুজু করে পরের দিনই রাজবীরের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল। এবার সিবিআই-এর সেই অভিযানের বৈধতা নিয়েই বড়সড় আইনি লড়াই শুরু হলো।

আদালতে পেশ করা আবেদনপত্রে রাজবীর সিং ঘুমান অভিযোগ করেছেন যে, গত ৫ অক্টোবর রাত ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ সিবিআই এফআইআর রুজু করে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট থেকে ৭ অক্টোবর ভোর ৪টে পর্যন্ত সাঙ্গরুরের ঘরাঁচো গ্রামে তাঁর পৈতৃক ভিটেয় দীর্ঘ অভিযান চালায়।

পিটিশনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন আইনের ১৭এ ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর সরকারি দায়িত্ব পালন বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো হাতে-নাতে ধরা পড়ার মামলা ছাড়া এই নিয়ম এড়ানো যায় না। যখন তল্লাশি চালানো হয়, তখন রাজবীর কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।

বাজেয়াপ্তি ও তল্লাশি প্রক্রিয়ার সময় আইনানুগ দুজন স্বাধীন সাক্ষীর বদলে মাত্র একজন স্বাধীন সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

হাইকোর্টে আবেদন জানানোর ক্ষেত্রে ২০২০ সালের সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত ‘যশবন্ত সিনহা বনাম সিবিআই’ মামলার রায়কে প্রধান আইনি হাতিয়ার করেছেন রাজবীর ঘুমান। সেই মামলায় শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, কোনো আদালত যদি সিবিআই-কে এফআইআর রুজু করার নির্দেশও দেয়, তবুও আইনগতভাবে ১৭এ ধারার অধীনে সরকারি আগাম অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বজায় থাকে। রাজবীর আর্জি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত সিবিআই-এর এই তদন্ত বাতিল করা হোক অথবা তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে সিবিআই-কে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হোক।