পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ফ্লাই দুবাই বিমানের ককপিটে ভারতীয় পাইলটের উপর হামলার ঘটনার তদন্তে এবার সরাসরি ময়দানে নামল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশের পর গত ৯ অক্টোবর এনআইএ এই ঘটনার ভিত্তিতে একটি এফআইআর দায়ের করেছে। ২০১৬ সালের বিমান ছিনতাই বিরোধী আইনের ৩ নম্বর ধারা এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ-এর ১৬, ১৮ এবং ২০ ধারায় এই মামলা রুজু করা হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাই দুবাই ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল।

মাঝআকাশে বিমানের সহকারী ওমানি পাইলট হামাম আল হামামি আচমকা ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা চালায়। এনআইএ মনে করছে, এটি নিছক কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে মারামারি ছিল না, বরং এর পিছনে বিমান ছিনতাইয়ের বড়সড় ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে। ভারতকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছিল কি না বা এর নেপথ্যে কোনও বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। যেহেতু বিদেশে কোনও ভারতীয় নাগরিক আক্রান্ত হলে ভারত সরকার তার তদন্ত করতে পারে, সেই অধিকারবলেই এনআইএ-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই তদন্তের স্বার্থে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি প্রশাসনের কাছে আইনি সাহায্যও চাওয়া হবে।
তদন্তকারীদের জেরায় ধৃত হামামি ইতিমধ্যেই নিজের ভয়ঙ্কর ছকের কথা স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাপ্টেনকে খুন করে বিমানটিকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের নাম করে টার্মিনাল বা অন্য কোনও বহুতলে আছড়ে ফেলা। নমাজ পড়ার অছিলায় ককপিটে থাকা কুঠার বের করে সে স্মিতের ওপর আচমকা আক্রমণ করে।
প্রথম এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে সে অটো পাইলট ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে বিমানটিকে মরুভূমিতে আছড়ে ফেলার চেষ্টা করে। এর ফলে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
এই চরম বিপদের মুহূর্তে গুরুতর জখম অবস্থাতেও হার মানেননি ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। তিনি কোনও মতে ককপিটের দরজা খুলে বিপদসংকেত পাঠাতে সক্ষম হন। এরপরই বিমানের কেবিন ক্রু, যাত্রী এবং সেখানে উপস্থিত অন্য দুই অফ-ডিউটি পাইলট মিলে হামামিকে জাপটে ধরে কাবু করেন এবং বিমানটিকে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরবে অবতরণ করানো হয়। ক্যাপ্টেনের এই অসীম সাহসিকতার প্রশংসায় এখন পঞ্চমুখ গোটা বিশ্ব। অন্যদিকে, হামামি বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।