পুবের কলম, অসলো: আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রাক্তন হাইকমিশনার নবনেথম “নভি” পিল্লাই। নরওয়ের অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই খেতাব বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে। এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের ১২৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। 

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের এক তামিল বংশোদ্ভূত ভারতীয় পরিবারে জন্ম নেয় পিল্লাই। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিশ্বমঞ্চে গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিচার সুনিশ্চিত করতে আজীবন লড়াই করেছেন।

১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ডারবানে জন্মগ্রহণ করেন নভি পিল্লাই। অশ্বেতাঙ্গ হিসেবে বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকায় চরম বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েও তিনি দমে যাননি।

জানা যায়, ১৯৬৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল প্রদেশে প্রথম মহিলা হিসেবে আইন পেশা শুরু করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে বর্ণবাদ পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ মহিলা বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে রুয়ান্ডা গণহত্যার বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-এর বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব সামলান। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার পদে আসীন ছিলেন তিনি।

সম্প্রতি ২০২১ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল গঠিত ‘দখলীকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ড সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক স্বাধীন তদন্ত কমিশন’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন নভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারকে অস্ত্র করে দুর্বল ও নিপীড়িতদের অধিকার রক্ষায় তাঁর সাহসী ভূমিকা নোবেল কমিটির প্রশংসা কুড়িয়েছে। নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার ছাড়া বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব—আর এই নীতিরই বাস্তব প্রতীক নভি পিল্লাই।