পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (এসআইআর) সংক্রান্ত বিচারাধীন লাখ লাখ আপিল আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জানান, ট্রাইব্যুনালে বকেয়া থাকা আবেদনগুলির মধ্যে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে এবং তা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন, তাঁদের আবেদন শুনানি অগ্রাধিকার পাবে। অন্যদিকে, অন্যের নাম কাটার দাবিতে জমা পড়া আপিলগুলি আপাতত পেছনে সরিয়ে রাখা হবে।

আদালতে শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বলেন, "ট্রাইব্যুনালগুলিতে ঝুলে থাকা আপিল আবেদনের গতি বাড়াতে আমরা জরুরি পদক্ষেপ নেব।

যোগ্য ভোটাররা যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য শীর্ষ আদালত উপযুক্ত হস্তক্ষেপ করবে।"

মামলাকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ও গোপাল শঙ্করনারায়ণন সুপ্রিম কোর্টে জানান, আগামী নভেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন তথা পুর ও পঞ্চায়েত নির্বাচন নির্ধারিত রয়েছে। অথচ বিপুল সংখ্যক ভোটারের আপিল আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে ঝুলে রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা তুলে ধরেন যে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রায় ১৮,০০০ ভোটারের আপিল মামলা ঝুলে থাকায় তাঁরা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের পেশ করা হলফনামা অনুযায়ী পরিসংখ্যানে প্রকাশ পেয়েছে। এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে মোট ৩৮.২০ লক্ষ আপিল জমা পড়েছে। গত মার্চ মাস থেকে কাজ শুরু করা ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল মাত্র ১.০২ লক্ষ আপিল নিষ্পত্তি করতে পেরেছে। নিষ্পত্তিকৃত ১,২৬,১৯৪টি আবেদনের মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের পক্ষে রায় গেছে এবং তাঁদের নাম পুনর্নিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রশান্ত ভূষণ এই ৯৩% সাফল্যের হারকে হাতিয়ার করে সওয়াল করেন, সিংহভাগ ভোটারের নাম ভুলভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল, ফলে অবিলম্বে এই আবেদনের নিষ্পত্তি না হলে বহু বৈধ নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। শুনানিপর্বে বেঞ্চের অন্য সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রক্রিয়াটির প্রযুক্তিগত জটিলতা চিহ্নিত করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের 'ECINET' পোর্টালে যে সফটওয়্যারগত সমস্যা ও ক্রুটি দেখা দিচ্ছে, তা দ্রুত খতিয়ে দেখে সমাধান করা প্রয়োজন।