পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রানিনগর থানার পুলিশের হাতে 'বাংলাদেশি' সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া উত্তর ২৪ পরগনার এক বাসিন্দার আটক থাকা নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ওই ব্যক্তির কাছে আধার এবং প্যান কার্ড থাকা সত্ত্বেও, সেগুলি বাতিল না করে কী ভাবে তাঁকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
গত ৮ অগস্ট পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এবং ১০ অগস্ট থেকে তিনি ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।

বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, নিজে যে মৃত বাবার সন্তান শুধুমাত্র এই পরিচয়টুকু প্রমাণ করতে না পারলেই কি কাউকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া যায়? পাশাপাশি, সত্তরের দশকে যাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে এসেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির স্পষ্ট বক্তব্য, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে এ ভাবে আটকে রাখা যায় না।
অন্যদিকে, রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে যুক্তি দেন, জাল নথি ব্যবহার করে ওই আধার বা প্যান কার্ড তৈরি করা হতে পারে এবং সেটাই ওই ব্যক্তির নির্বাসনের কারণ হতে পারে।
তবে হাই কোর্ট জানায়, কাউকে নির্বাসনে পাঠানোর আগে তাঁর নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা উচিত। আপাতত ওই আটক ব্যক্তি কোনও আইনি সুরাহা পাননি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলাটি তাঁর এজলাস থেকে ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে।